পশ্চিমবঙ্গসহ ৫ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে

পশ্চিমবঙ্গসহ ৫ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে

সংগৃহীত ছবি

আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় ৮টা ৩০ মিনিট) ভোটগণনা শুরু হয়। নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে শুরু হয়েছে টানটান উত্তেজনা।

চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম এবং পুদুচেরিতে এপ্রিল মাস ছিল নির্বাচনের মরসুম।

 আজই বোঝা যাবে কোন দল কোথায় সরকার গঠন করবে।

পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনে ভোট হয়েছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে মূল লড়াই চলছে। এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ দুই কারণে। প্রথমত, দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় বিজেপি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।

দ্বিতীয়ত, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বড় বিতর্ক হয়েছে। ‘এসআইআর’ অভিযানে প্রায় ৮৯ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১১.৬ শতাংশ, এটি ২০২১ সালের জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি।

তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি আসনে ভোট হয়েছে। এখানে তিনটি পক্ষের মধ্যে লড়াই চলছে, শাসক ডিএমকে জোট, এআইএডিএমকে জোট এবং অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল টিভিকে।

ভারতের কেরালা রাজ্যে মোট ১৪০টি বিধানসভা আসন রয়েছে। সেখানে বামফ্রন্ট বা এলডিএফ টানা তৃতীয়বার জয়ী হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ভোটের পর করা এক্সিট পোল বলছে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জিততে পারে। কিন্তু এক্সিট পোল অনেক সময় ভুলও হতে পারে।

ভারতের আসাম রাজ্যে মোট ১২৬টি বিধানসভা আসন রয়েছে।

সেখানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) টানা তৃতীয়বার জয়ের আশা করছে। ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে মোট ৩০টি আসনে ভোট হয়েছে। সেখানে এন রঙ্গস্বামী-এর দল অল ইন্ডিয়া এন আর কংগ্রেস (এআইএনআরসি) দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

ভোট গণনা শুরু হবে পোস্টাল ব্যালট দিয়ে। এরপর একে একে খোলা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)।  ব্যালটগুলো কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ‘স্ট্রং রুমে’ রাখা হয়েছে। সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী পাহারা দিচ্ছে। বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রে ‘স্ট্রং রুমের’ বাইরে আলাদাভাবে পাহারা বসিয়েছে তৃণমূল ও বিজেপিও। 

গণনাকেন্দ্রগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তা রাখা হয়েছে। যেসব দলের গণনাকারী প্রতিনিধি ভেতরে ঢুকবেন, তাদের কিউআর কোডসহ পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। শুধুমাত্র নির্বাচনী কর্মকর্তারাই মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন।

ধারণা করা হচ্ছে, দুপুর ১২টার মধ্যেই কোন দল এগিয়ে বা পিছিয়ে আছে, তার একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তবে কোথাও কোথাও চূড়ান্ত ফল পেতেরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ইভিএমে কারচুপি হতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু গণনার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।