ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে গাসিককে বর্জ্য ফেলা বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের
প্রতীকী ছবি।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমিতে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) অর্থাৎ ময়লা ফেলার ভাগাড়—নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই এলাকায় যে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে (গাসিক) বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আদালত একটি রুলও জারি করেছেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অননুমোদিতভাবে ভাগাড় নির্মাণ এবং উদ্যানের মূল ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন আইন-বহির্ভূত ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না।
এছাড়া উদ্যান ও বনভূমির ক্ষতিসাধনের জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে কেন ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
রুলের জবাব দিতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব; পরিবেশ অধিদপ্তর-এর মহাপরিচালক ও গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক; এবং বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ সোমবার (৪ মে) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমান-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। তাকে সহায়তা করেন হাসানুল বান্না, রুমানা শারমিন ও তৌহিদুল আলম।
বেলার আইনজীবী এস হাসানুল বান্না জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মূল ফটকসহ সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ডাম্পিং করে আসছিল গাজীপুর সিটি করপোরেশন। এতে একদিকে উদ্যানের পরিবেশ, প্রতিবেশ ব্যবস্থা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও জীব-বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল; অন্যদিকে মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে জন-দুর্ভোগ সৃষ্টি করছিল।
তিনি আরও জানান, বন অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হলেও সম্প্রতি তাদের সব বাধা উপেক্ষা করে পুনরায় বর্জ্য ডাম্পিং শুরু করে সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে উদ্যান সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অননুমোদিতভাবে এসটিএস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এমনকি জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বনভূমিতে এসটিএস নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ জানালেও বিষয়টি আমলে না নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ, প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় মামলাটি দায়ের করে বেলা।