বাকৃবির কৃষিকন্যা হলের সিলিং ভেঙে চুরি, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষিকন্যা হলের একটি কক্ষে সিলিং ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একাধিক শিক্ষার্থীর ব্যাগ থেকে নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি হয়েছে।
এ ঘটনায় হলের নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক প্রকার আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে হলের খ ব্লকের ১৩ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী জানায়, ‘রাত আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে আমি রিডিং রুম থেকে ফিরেছিলাম। দরজায় তালা খুলতে গিয়ে দেখি ভেতর থেকে দরজা আটকানো।
অথচ রুমে তখন আমাদের কোনো রুমমেট ছিল না। ভেতর থেকে কেন দরজা বন্ধ থাকবে এ ভেবে তখন জানালা দিয়ে চোরকে দেখতে পাই। আমাকে দেখা মাত্র চোর সিলিংয়ের পথ দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। আমার চিৎকার শুনে তখন আশপাশের সবাই ছুটে আসে।
পরে আমরা রুমে ঢুকে দেখি, আমাদের প্রায় ৪ হাজার টাকা আর আইডি কার্ডসহ দুইটা ব্যাগ নিয়ে চোর পালিয়ে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পুরো ঘটনায় আমরা এখনো আতঙ্কে আছি। আমাদের প্রশ্ন হলো, একটা মেয়েদের হলে তালাবদ্ধ রুমেও যদি এভাবে সিলিং ভেঙে চোর ঢুকে পড়ে, তবে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? হলের ভেতর আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বলতে তো আর কিছুই থাকল না। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি একজন মেয়ে হয়ে হলের ভেতর আমরা কীভাবে নিরাপদ থাকব, সেটা আগে নিশ্চিত করা হোক।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই ব্লকের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী আগে বাসায় চলে যায়।
আমার বাস দেরিতে হওয়ায় আমিসহ আরও প্রায় ৭ জন শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছিলাম। সে সময় সকাল ১০টার দিকে খ-১৫ নম্বর রুমের ওয়াশ রুমের জানালা দিয়ে মানুষের মতো কাউকে দেখতে পাওয়া যেত। বিষয়টি হলের কর্মীদের জানানো হলে তারা দ্রুত আসেন। তবে কাউকে দেখতে পাননি। সেই সময় হলে কোনো পুরুষ কর্মচারী উপস্থিত না থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু আজকের এই ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং আমাদের হলের সিট একটি নিরাপদ স্থানে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘হলের নির্মাণ কাজ চলমান সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী সংখ্যা অনেক কম আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু আজকের এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা হতে পারে অথবা কোনো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি সুযোগ বুঝে এই কাজ করেছে বলে অনুমান করছি।’