সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি: ছোট্ট জিকির, অসীম ফজিলত
ফাইল ফটো
ইসলামে এমন কিছু আমল আছে যা করতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড লাগে, অথচ ফজিলত সীমাহীন। তেমনই একটি জিকির হলো ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’। অর্থ: ‘আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তাঁরই প্রশংসা করছি।’
ফজিলত
১. আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কথা
আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘আল্লাহ তাআলা তাঁর ফেরেশতা কিংবা বান্দাদের জন্য যে কালাম নির্বাচন করেছেন, তা হলো- সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।’ (সহিহ মুসলিম: ২৭৩১)
২. সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফ
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০বার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি বলবে তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও ক্ষমা করে দেয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪০৫; সহিহ মুসলিম: ২৬৯১)
৩. মিজানের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী আমল
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘দুটি কালেমা যা জবানে অতি হালকা, মিজানে ভারি, আর রহমানের নিকট খুব পছন্দনীয়, তার একটি হলো- ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ (অপরটি ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম) (সহিহ বুখারি: ৬৬৮২)
৪. কেয়ামতে শ্রেষ্ঠত্ব
যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল নিয়ে আর কেউ উপস্থিত হতে পারবে না; কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে তার সমান অথবা তার চেয়ে বেশি আমল করেছে।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯২)
পাঠের নিয়ম
বিশেষ কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই। তবে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী-
- সকাল ও সন্ধ্যায় ১০০ বার করে পাঠ করা উত্তম
- অজু ছাড়াও পাঠ করা যায়; চলাফেরা বা কাজের ফাঁকেও পড়া যায়
- অর্থ অনুধাবন করে একাগ্রতার সাথে পাঠ করলে সওয়াব পরিপূর্ণ হয়
ব্যস্ত জীবনে বড় আমল করা কঠিন হলেও এই ছোট্ট জিকিরটি আমাদের আমলনামাকে ভারী করতে এবং গুনাহ মোচন করতে বড় ভূমিকা রাখে। তাই ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’কে নিত্যদিনের সঙ্গী বানিয়ে নেওয়া প্রতিটি মুসলমানের জন্য অমূল্য একটি সুযোগ।