শেয়ারবাজারে হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা বিধিমালা অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত
শেয়ারবাজারে অনিয়ম, দুর্নীতি, ইনসাইডার ট্রেডিং ও কারসাজির তথ্য প্রদানকারীর (হুইসেলব্লোয়ার) সুরক্ষা নিশ্চিতে একটি খসড়া বিধিমালা অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিধিমালাটি শিগগিরই গেজেট আকারে আসবে।
রোববার (১৭ মে) বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০১৫তম জরুরি কমিশন সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা প্রদান) বিধিমালা, ২০২৬’ এই অনুমোদন মেলে।
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কমিশনের ৯৯৯তম সভায় খসড়াটির অনুমোদনের পর মতামত যাচাইয়ের জন্য তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ পায়। মূলত পুঁজিবাজারে আইনকানুন প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে এই বিধিমালা ভূমিকা রাখবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, কমিশনে নিবন্ধিত বাজার মধ্যস্থতাকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা এসপিভির কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিচালনা পর্ষদ ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং নিরীক্ষকরা হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে গণ্য। এসব ব্যক্তি পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কোনো আইন লঙ্ঘন বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য নির্ধারিত ফরমে সরাসরি, ডাকযোগে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পাঠাতে পারবেন।
বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত বিশ্বাসের ভিত্তিতে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অনিয়ম, আইন লঙ্ঘন বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত হলে নির্ধারিত ফরমে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন। তথ্য লিখিতভাবে, সরাসরি, ডাকযোগে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রেরণ করা যাবে।
এতে তথ্য-প্রকাশকারীর পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখার বিধান রাখা হয়েছে। তথ্য প্রকাশের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পদাবনতি, বদলি, চাকরিচ্যুতি, হয়রানি বা বৈষম্যমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, কমিশনের অধীনে একজন অতিরিক্ত পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে ‘ডিজিগনেটেড অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি তথ্য গ্রহণ, প্রাথমিক যাচাই-বাছাই, রেজিস্টার সংরক্ষণ ও প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন। প্রয়োজনবোধে বিষয়টি কমিশনের ইন্সপেকশন, ইনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগে পাঠানো হবে।
প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযোগ তুচ্ছ, হয়রানিমূলক বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম বন্ধের বিধানও রাখা হয়েছে।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, তথ্য-প্রকাশকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরোপিত জরিমানা বা অর্থদণ্ড আদায় হলে কমিশন স্বীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আর্থিক প্রণোদনা বা সম্মাননা প্রদান করতে পারবে। তবে এ প্রণোদনার পরিমাণ আদায়কৃত অর্থের ২৫ শতাংশের বেশি এবং কোনো অবস্থাতেই ১০ কোটি টাকার বেশি হবে না।