‘অলিগার্কদের কবল থেকে জ্বালানি খাত বের করতে হবে’

‘অলিগার্কদের কবল থেকে জ্বালানি খাত বের করতে হবে’

ছবি: সংগৃহীত

পতিত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকজন অলিগার্কের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করা হয়েছে, যার বোঝা এখন জনগণকে ভর্তুকির মাধ্যমে বহন করতে হচ্ছে।

রোববার (১৭ মে) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ঢাকা স্ট্রিম আয়োজিত ‘আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অতীতে জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। শিল্পমালিক থেকে সাধারণ ভোক্তা সবাই সেই চক্রের প্রভাবের শিকার হয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, এই ‘বিষধর চক্র’ দেশের অর্থনীতিকে পিছিয়ে দিচ্ছে এবং জনগণের করের টাকায় ভর্তুকি দিতে সরকার বাধ্য হচ্ছে।

অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা জানান, আগামী বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দিয়ে পাঁচটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য সামনে রেখে জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো, ভোক্তা ও শিল্পের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য কাঠামো নির্ধারণ, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদননির্ভর নীতি গ্রহণ, গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা এবং জ্বালানির ন্যূনতম নিরাপত্তা মজুত নিশ্চিত করা।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, অতীতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে জীবাশ্ম জ্বালানিতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মোট বরাদ্দের মাত্র ৪ শতাংশের মতো রাখা হয়েছে। এতে সরকারের অগ্রাধিকারের চিত্র স্পষ্ট হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন, নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।