ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজিতে নারীকে হত্যা: রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩
প্রতিকি ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত জাহানারা বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৪ মে দুপুরে সদর উপজেলার কুমারশীল মোড় থেকে আশুগঞ্জে নিজ বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজিতে ওঠেন জাহানারা বেগম। পথে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র তাকে আক্রমণ করে।
বাধা দিলে এবং চিৎকার শুরু করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে অষ্টগ্রাম এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ১৮ মে নিহতের ছেলে জুবায়েদুর রহমান খান ইমন সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সিএনজির পেছনে লেখা 'মা বাবার দোয়া আয়াত পরিবহন' শনাক্ত করা হয়। এর সূত্র ধরে ১৮ মে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সিএনজিটি শনাক্ত করে চালক মো. বাদশাহকে গ্রেফতার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর পৈরতলা এলাকা থেকে শরীফ উদ্দিনকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
একই দিন রাতে সুলতানপুর এলাকা থেকে রিমা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত কাপড় ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামি জোবায়ের হোসেন ওরফে হৃদয়ের রক্তমাখা জিন্স প্যান্টও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের মতে, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে জাহানারা বেগমকে সিএনজিতে তোলা হয়েছিল।
জেলা পুলিশ জানায়, গ্রেফতার রিমা আক্তারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা, বাদশাহর বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা, শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসহ সাতটি মামলা রয়েছে। পলাতক আসামি জোবায়ের হোসেন হৃদয়ের বিরুদ্ধেও হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ ও মানবপাচার আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, 'গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তি বক্তব্য দিয়েছেন। '