৪০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ফোন কোনটি?

৪০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ফোন কোনটি?

ফাইল ফটো

ঈদকে সামনে রেখে নতুন স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। বিশেষ করে ৪০ হাজার টাকার বাজেটে এখন বাজারে মিলছে বড় ব্যাটারি, উন্নত ক্যামেরা, এআই সুবিধা ও গেমিং পারফরম্যান্সের একাধিক প্রিমিয়াম স্মার্টফোন। ব্যবহার ও চাহিদা অনুযায়ী কোন ফোনটি আপনার জন্য ভালো হতে পারে, সেটিই তুলে ধরা হলো এ প্রতিবেদনে।

ক্যামেরাপ্রেমীদের জন্য টেকনো ক্যামন ৫০

এই বাজেটে সবচেয়ে আলোচিত ফোনগুলোর একটি টেকনো ক্যামন ৫০। ফোনটিতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের সনি ওআইএস ক্যামেরা। কম আলোতেও তুলনামূলক ভালো ছবি পাওয়া যায়। সঙ্গে আছে ৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা ও ৩২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। ফলে ছবি ও ভিডিও - দুই ক্ষেত্রেই ফোনটি ভালো অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

ক্যামন ৫০–এ রয়েছে ৬ দশমিক ৭৮ ইঞ্চির ১.৫কে ডিসপ্লে ও ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেট। এতে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি২০০ আলটিমেট প্রসেসর। বড় ৬৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির সঙ্গে আছে ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং। ৮ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম ৩৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। আর ২৫৬ জিবি সংস্করণের দাম ৩৮ হাজার ৯৯৯ টাকা।

একটু বেশি বাজেটে ক্যামন ৫০ আলট্রা

যারা আরও উন্নত ক্যামেরা ও পারফরম্যান্স চান, তাদের জন্য রয়েছে ক্যামন ৫০ আলট্রা ফাইভজি। এতে ৩x টেলিফটো লেন্স, এআই ১০০x সুপারজুম ও ডাইমেনসিটি ৭৪০০ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটির ৮ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি সংস্করণের দাম ৪৬ হাজার ৯৯৯ টাকা। ফলে এটি ৪০ হাজার টাকার বাজেটের কিছুটা বাইরে।

বড় ব্যাটারির জন্য পোভা কার্ভ ২ ফাইভজি

ব্যাটারি ব্যাকআপকে অগ্রাধিকার দিলে টেকনো পোভা কার্ভ ২ ফাইভজি হতে পারে ভালো পছন্দ। মাত্র ৭ দশমিক ৪২ মিলিমিটার পাতলা ডিজাইনের ভেতর এতে রয়েছে ৮ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। সাধারণ ব্যবহারে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত চার্জ ব্যাকআপ পাওয়া যেতে পারে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফোনটিতে ৬ দশমিক ৭৮ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে, ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেট ও সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ নিটস ব্রাইটনেস রয়েছে। পাশাপাশি গরিলা গ্লাস ৭আই সুরক্ষা ও আইপি৬৪ ওয়াটার রেজিস্ট্যান্সও আছে। ৮ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম ৩৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।

সেলফি ও ব্যাটারিতে অপো এ৬এস প্রো

অপো এ৬এস প্রো ফোরজি মূলত বড় ব্যাটারি ও সেলফিকেন্দ্রিক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে তৈরি। এতে রয়েছে ৭ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফোনটিতে মিডিয়াটেক হেলিও জি১০০ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। ৮ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি সংস্করণের দাম প্রায় ৩৯ হাজার ৯৯০ টাকা।

পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফিতে ভিভো ভি৬০ লাইট

ফটোগ্রাফিপ্রেমীদের জন্য ভিভো ভি৬০ লাইট ফোরজি আকর্ষণীয় হতে পারে। এতে রয়েছে অরা লাইট পোর্ট্রেট ফিচার, যা কম আলোতেও ভালো পোর্ট্রেট ছবি তুলতে সাহায্য করে। ফোনটিতে ৬৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ও ৯০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং রয়েছে। এর দাম প্রায় ৩৪ হাজার ৯৯৯ টাকা।

গেমিংয়ের জন্য ইনফিনিক্স জিটি ৩০ প্রো

গেমিং ও পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকা ফোনগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনফিনিক্স জিটি ৩০ প্রো। এতে ডাইমেনসিটি ৮৩৫০ আলটিমেট প্রসেসর ও ১৪৪ হার্জ অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। ১০৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকলেও ৫৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি তুলনামূলক ছোট। ১২ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি সংস্করণের দাম প্রায় ৩৭ হাজার ৯৯৯ টাকা।

রিয়েলমি ১৪ ফাইভজি কতটা ভালো?

রিয়েলমি ১৪ ফাইভজি ফোনটিতে রয়েছে ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ও ১২ জিবি র‍্যাম। দৈনন্দিন ব্যবহার ও মাল্টিটাস্কিংয়ে ফোনটি ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে। তবে এর দাম প্রায় ৪১ হাজার ৯৯৯ টাকা।

কোন ফোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত?

বর্তমানে ব্যবহারকারীরা শুধু ক্যামেরা বা প্রসেসর নয়, এআই সুবিধা, ব্যাটারি ব্যাকআপ ও ডিসপ্লে অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। সে কারণে ব্র্যান্ডগুলোও এখন বড় ব্যাটারি, উন্নত স্ক্রিন ও স্মার্ট সফটওয়্যার ফিচারের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে।

ঈদের আগে নতুন ফোন কেনার পরিকল্পনা থাকলে নিজের ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞরা। ছবি তুলতে ভালোবাসলে ক্যামেরাকেন্দ্রিক ফোন, গেমিং করলে শক্তিশালী প্রসেসর এবং দীর্ঘ ব্যাটারি চাইলে বড় ব্যাটারির ফোন বেছে নেওয়াই হবে ভালো সিদ্ধান্ত।