হন্ডুরাসে বন্দুকধারীদের হামলায় ৬ পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ২৫
ছবিঃ রয়টার্স
হন্ডুরাসে বন্দুকধারীদের পৃথক হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সংঘটিত এই ঘটনাগুলো দেশটির সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সহিংসতা দমনে সরকারের চলমান অভিযান সত্ত্বেও এসব হামলা ঘটেছে, যা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দেশটির উত্তরাঞ্চলের ত্রুহিলো পৌর এলাকায় একটি পাম চাষের বাগানে হামলা চালিয়ে বন্দুকধারীরা ১৯ জনকে হত্যা করে। স্থানীয় একটি গ্রামীণ সংগঠনের নেতা এএফপিকে জানান, নিহতরা ওই এলাকায় সক্রিয় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন।
তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি, হামলাকারীরা বাগানের শ্রমিকদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। নিহতদের মধ্যে ৬১ বছর বয়সি একজনও ছিলেন।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কাজের জন্য ব্যবহৃত রাবারের বুট পরা কয়েকজনের মরদেহ বাগানের বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। অন্যদিকে, গুয়াতেমালা সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলের ওমোয়া এলাকায় আরেকটি হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য নিহত হন।
পুলিশ জানায়, তারা গ্যাং দমনের একটি অভিযানে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু পথে সশস্ত্র হামলাকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
দুটি হামলার পর জাতীয় পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত বিশেষ অভিযান চালানো হবে। একই সঙ্গে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে সরকার।
২০২২ সালে জারি করা জরুরি অবস্থা চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বহু এলাকায় কার্যকর ছিল। তবে ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট নাসরি ‘টিটো’ আসফুরা ক্ষমতা গ্রহণের পর সেই জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়।
হন্ডুরাস দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাং সহিংসতা ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সংগ্রাম করছে।