তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা, আদালতে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি

তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা, আদালতে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি

প্রতিকি ছবি

 

চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এদিন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার মনির হোসেন। এদিকে ভিকটিম শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মনিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পুলিশবাহী কয়েকটি পিকআপ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি মামলা করা হবে। মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন।

তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

এদিকে ভিকটিম শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটিকে দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার পরিদর্শন করে এ ঘোষণা দেন মেয়র। তিনি হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সান্ত¡না দেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

শিশুটির মাকে মেয়র তার চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণের আশ্বাস দেন। এসময় মেয়র বলেন, শিশুর প্রতি এ ধরনের নৃশংস ও অমানবিক ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমি ইতোমধ্যে শিশুটির সুচিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি। আমি কর্তব্যরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমি একজন চিকিৎসক এবং সন্তানের বাবা হিসেবে এ শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিলাম। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথেও কথা বলেছি যাতে কোনো অপরাধী ছাড় না পায়।

এরআগে বৃহস্পতিবার স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি। পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।