কেরানীগঞ্জে আড়াই কোটি টাকার জমি জালিয়াতি নস্যাৎ: মুচলেকায় পার পেল প্রতারক চক্র
ছবি: প্রতিনিধি
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের পৈত্রিক জমি আত্মসাতের একটি বড় চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। আপন ভাই ও খালাতো ভাইয়ের সম্পত্তি ফাঁকি দিতে ভুয়া দাতা সাজিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আনা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। আদ্-দ্বীন আকিজ গ্রুপের কর্মকর্তাদের তীক্ষ্ণ জেরায় বেরিয়ে আসে পুরো জালিয়াতির ঘটনা। পরে অপরাধ স্বীকার করে মুচলেকা দিয়ে শ্যালকের জিম্মায় মুক্তি পায় অভিযুক্তরা।
যেভাবে জালিয়াতির চেষ্টা:
গত ২৩ মে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দোলেশ্বর মৌজার প্রায় ২.৫ কোটি টাকা মূল্যের একটি জমির দলিল রেজিস্ট্রি করার প্রস্তুতি চলছিল। চুনকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা হাজী নূর ইসলামের ছেলে অপু নামের এক ব্যক্তি তার আপন ও খালাতো ভাইয়ের শরিকানা সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করতে এই জালিয়াতির আশ্রয় নেন। রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করতে তিনি আসল মালিকদের পরিবর্তে দুই জন ভাড়াটে ব্যক্তিকে ‘ভুয়া দাতা’ সাজিয়ে অফিসে নিয়ে আসেন।
যেভাবে ধরা পড়ল প্রতারণা:
দলিল করার সময় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয় আদ্-দ্বীন আকিজ গ্রুপের জিএম মো: আবুল ইসলাম এবং প্রকল্প প্রধান মো: রাসুল উদ্দীনের। তারা ওই ব্যক্তিদের আচরণে সন্দেহ পেয়ে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। কর্মকর্তাদের কঠোর ও ধারাবাহিক জেরার মুখে একপর্যায়ে ভুয়া দাতারা ভেঙে পড়েন। তারা স্বীকার করেন যে, তারা জমির প্রকৃত মালিক নন, বরং টাকার বিনিময়ে ভুয়া সেজে এসেছেন।
জালিয়াতিতে জড়িতদের পরিচয়:
জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের তিন জনের আসল পরিচয় পাওয়া গেছে:
ভুয়া দাতা ১: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের বাসিন্দা মন্টু মিয়া। তাকে আসল মালিক ‘আয়নুল হক’ সাজানো হয়েছিল।
ভুয়া দাতা ২: কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা কৈবর্তপাড়ার শাহিন আহম্মেদ। তাকে মূল মালিক ‘হামিদুর রহমান’ সাজিয়ে আনা হয়েছিল।
মূল পরিকল্পনাকারী (দালাল): দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর এলাকার সলিম মিয়ার ছেলে শ্যামল। তিনিই এই ভুয়া দাতা সংগ্রহ ও পুরো চক্রান্তের ছক এঁকেছিলেন।
মুচলেকায় মুক্তি:
প্রতারণার বিষয়টি হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ার পর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে শোরগোল পড়ে যায়। এরপর উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে অভিযুক্তরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নেন। ভবিষ্যতে আর কখনো এমন অপরাধ করবেন না—এই মর্মে একটি লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। এরপর মূল অভিযুক্ত শাহিন আহমেদ এর শ্যালকের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রকৃত শরিকদের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি জালিয়াতির হাত থেকে রক্ষা করায় আদ্-দ্বীন আকিজ গ্রুপের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতারা।