গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত

গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত

ফাইল ছবি

দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। এরই মধ্যে ঈদের নামাজের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।  

মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৫টায় দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসাকে সাথে নিয়ে মাঠ পরিদর্শন করেন। পরে মাঠের প্রস্তুতি সর্বশেষ পরিস্থিতি সাংবাদিকদের অবহিত করেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, এমপি

এ সময় দিনাজপুর শহরের সর্বস্তরের মুসল্লিবৃন্দকে এই মাঠে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করার আহবান জানান তিনি।   

আয়তনের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ মাঠ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দিনাজপুর পৌরসভার আয়োজনে বৃহৎ এই ঈদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এ জামাতে ইমামতি করবেন দিনাজপুরের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী।  

এখানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, দিনাজপুর পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ, সরকারি বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিবৃন্দ।  

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহৎ এই ঈদগাহে মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সবরকম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাসহ সুশৃংখলভাবে ঈদের নামাজ সম্পন্ন করতে অসংখ্য মাইক বসানো হচ্ছে।

লাখ লাখ মুসল্লির ওজুর জন্য পর্যাপ্ত ওযুখানা এবং পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।  

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা জানান, ঈদের জামাতে মুসল্লিদের নিরাপত্তা জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো ঈদগাহ মাঠজুড়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদের দিন স্থাপিত প্রবেশপথ দিয়ে ঈদগাহ মাঠে প্রবেশ করবেন। মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেক প্রবেশ পথে মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হয়েছে।

মুসল্লিরা শুধু জায়নামাজ ও ছাতা নিয়ে ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করতে পারবেন। ঈদগাহ মাঠ এলাকায় দুটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।

দিনাজপুর পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানের আয়তন প্রায় ২২ একর। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে বড় কোনো মিম্বর ছিল না।  

২০১৭ সালে ৫২টি গম্বুজ নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। গম্বুজগুলোর দুই পাশে ৬০ ফুট করে দুটি মিনার, মাঝের দুটি মিনার ৫০ ফুট করে। ঈদগাহ মাঠের মিনারের প্রথম গম্বুজ অর্থাৎ মেহেরাবের (যেখানে ইমাম দাঁড়াবেন) উচ্চতা ৪৭ ফিট। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৪৯টি গম্বুজ। এছাড়া ৫১৬ ফিট লম্বায় ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। সিরামিক্স দিয়ে পুরো মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক লাইটিং। রাত হলে ঈদগাহ মিনার আলোকিত হয়ে ওঠে। দক্ষিণ এশিয়ায় এত বড় ঈদগাহ মাঠ দ্বিতীয়টি নেই।  

২০১৭ সাল থেকেই প্রতিবারে এখানে বৃহৎ পরিসরে ঈদের নামাজ আদায় করছেন দিনাজপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এই ঈদগাহে নামাজ আদায়ের জন্য দিনাজপুর জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ এবং দিনাজপুর পৌরসভার উদ্যোগে এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।