মানিকগঞ্জে এক রাতে তিন হত্যা

মানিকগঞ্জে এক রাতে তিন হত্যা

প্রতীকী ছবি

মানিকগঞ্জে এক রাতেই পূর্বশত্রুতার জের ও পারিবারিক কলহে মা-ছেলেসহ তিনজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।  

শনিবার (৩০ মে) দিনগত রাতে সদর ও দৌলতপুর উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে।

সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের উত্তর পুটাইল গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. সজিব হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার গভীর রাতে তিনি উত্তর পুটাইল এলাকার কৃষ্ণনগরে লুৎফর রহমানের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত দেড়টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে পুটাইল ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী বালিয়াবিল ও কৃষ্ণনগর এলাকার শতাধিক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সজিব নিহত হন। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি ইকরাম হোসেন হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত সজিব হোসেন ওই এলাকার মুনসের আলীর ছেলে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সজিবের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা ছিল।

নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে গৃহবধূ আমেনা বেগম ও তাঁর দেড় বছর বয়সি ছেলে আসওয়াদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মা ও শিশুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।  ঘটনাস্থল থেকে একটি দা ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত আমেনার স্বামী সালাম মোল্লা স্থানীয় বাজারের একজন ব্যবসায়ী। রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তার ওপরও হামলা চালানো হয়।  গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার বলেন, দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।  জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এক রাতেই তিনটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় মানিকগঞ্জজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, দুটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।