ক্যালিফোর্নিয়ায় রাসায়নিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে ইরান-মার্কিন যুদ্ধ!

ক্যালিফোর্নিয়ায় রাসায়নিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে ইরান-মার্কিন যুদ্ধ!

ফাইল ছবি।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার রাসায়নিক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী সামরিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ তৈরি করে থাকে।ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের চাপ সামাল দিতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির একটি রাসায়নিক ট্যাংক ফেটে যাওয়ার পর বিস্ফোরণের আশঙ্কায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

দ্য ইন্টারসেপ্ট-এর তথ্য মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার গার্ডেন গ্রোভে অবস্থিত জিকেএন অ্যারোস্পেস কারখানার ৭ হাজার গ্যালন ধারণক্ষমতার রাসায়নিক ট্যাংকটি ফেটে যাওয়ার পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফেডারেল চুক্তির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি সামরিক অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন-এর সঙ্গে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের উপ-চুক্তি (সাবকন্ট্রাক্ট) পেয়েছে।

২০২৫ সালে কানাডাভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট প্লাউঘশেয়ার্স-এর এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইসরায়েলের জন্য এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান উৎপাদনে লকহিড মার্টিন এক ডজনেরও বেশি দেশের শত শত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উপ-চুক্তি করেছে। এর মধ্যে গার্ডেন গ্রোভভিত্তিক জিকেএন-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে যা লকহিড মার্টিনের কাছ থেকে ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের কাজ পেয়েছে।

রাসায়নিক দুর্ঘটনায় বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্যালেস্টাইন ইউথ মুভমেন্টের সংগঠক সোফিয়া আওয়াইদা বলেন, জিকেএন যখন চুক্তি ও মুনাফার পেছনে ছুটছে, তখন আমাদের সম্প্রদায়কে স্কুল বন্ধ ও জীবিকা ব্যাহত হওয়ার মূল্য দিতে হচ্ছে।

গার্ডেন গ্রোভ মূলত শ্রমজীবী ও অভিবাসী অধ্যুষিত একটি শহর। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশে নিম্নআয়ের বাসিন্দারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জিকেএন অ্যারোস্পেস তাদের ওয়েবসাইটে দাবি করেছে, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ককপিট ঢেকে রাখা স্বচ্ছ অ্যাক্রিলিক ক্যানোপি তৈরিতে তারা শীর্ষ সরবরাহকারী। কারখানা থেকে যে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ লিক হয়েছিল তা মূলত মিথাইল মেথাক্রাইলেট। এই রাসায়নিক পদার্থ ক্যানোপি তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান।

সেন্টার ফর সিভিলিয়ানস ইন কনফ্লিক্ট-এর আইন ও নীতি উপদেষ্টা জন র্যামিং চ্যাপেল বলেন, বিশ্বব্যাপী এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহে গার্ডেন গ্রোভে উৎপাদিত যন্ত্রাংশ ইসরায়েলে রপ্তানিকৃত বিমানগুলোতে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই ধরনের বিমান দিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষ হত্যা করে থাকে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের কাজে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার পর প্যালেস্টাইন ইউথ মুভমেন্ট এবং অন্যান্য সংগঠন জিকেএন-এর গার্ডেন গ্রোভ কারখানা বন্ধের দাবিতে একটি নতুন প্রচারণা শুরু করেছে। তারা সামরিক উৎপাদনসংক্রান্ত নতুন চুক্তি ও সম্প্রসারণ অনুমোদনের ওপর স্থগিতাদেশ এবং আবাসিক এলাকার কাছাকাছি সামরিক কারখানা স্থাপনে অন্তত আধা মাইল নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরির দাবি জানিয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, জিকেএন-এর বিরুদ্ধে অতীতে পরিবেশগত বিধি লঙ্ঘন, নির্গমন সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণে ব্যর্থতা, অনুমতি ছাড়া যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং শ্রমিক নিরাপত্তা বিধি ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ নিষ্পত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ লাখ ডলার জরিমানা ও সমঝোতা অর্থ প্রদান করেছে।