মঠবাড়িয়ায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার, মাটির নিচের পিলার তোলা নিয়ে রহস্য

মঠবাড়িয়ায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার, মাটির নিচের পিলার তোলা নিয়ে রহস্য

প্রতিকি ছবি

 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার এবং একজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, বৃটিশ আমলের একটি সীমানা পিলার খোঁজার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য বা প্রমাণ পায়নি পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের নেহালিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মক্তবখানা এলাকায় একটি পুকুরের পাশে বড় আকারের গর্ত খোঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। গর্তের কাছাকাছি কাদামাটি মাখা অবস্থায় পড়ে ছিল এক ব্যক্তির মরদেহ। অল্প দূরে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, মাটির নিচে থাকা কোনো পুরনো সীমানা পিলার উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে নিহতদের স্বজনরা বলছেন, তাদের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না।

নিহতদের একজন আব্দুর রশিদ (৫৫)। তিনি আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, শনিবার (৩০ মে) রাত প্রায় ১১টার দিকে একটি ফোন কল পাওয়ার পর তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে স্থানীয়রা নেহালিয়া মাদ্রাসার পাশের এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।

আব্দুর রশিদের মেয়ে জানান, রাতে কারও ফোন পেয়ে তার বাবা বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।

একই এলাকায় উদ্ধার হওয়া অপর মরদেহটি মো. সাগর (৩০)-এর। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা কালু মিয়ার ছেলে। এছাড়া আমড়াগাছিয়া এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তার প্যাদার ছেলে ইউসুফ প্যাদা নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে নিখোঁজের ঘটনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

সাগরের ছোট ভাই দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে তাদের বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। টর্চের আলো ফেললে তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও ফরেনসিক টিম। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী বলেন, “সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহগুলোর শরীরে হত্যার সুস্পষ্ট কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। শ্বাসরোধ, বিষপ্রয়োগ বা অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়ে থাকলে সেটিও প্রতিবেদনে উঠে আসবে। ”

সীমানা পিলার খোঁজাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে—এমন স্থানীয় দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা এমন কিছু এখনো শুনিনি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে