নোয়াখালীতে চাঁদা ও জুয়া খেলার বিরোধে নিহত ২, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

নোয়াখালীতে চাঁদা ও জুয়া খেলার বিরোধে নিহত ২, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

প্রতিকি ছবি

 

নোয়াখালীতে চাঁদা দাবি ও জুয়া খেলার বিরোধকে কেন্দ্র করে পৃথক দুটি ঘটনায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় এক ব্যবসায়ীসহ দু’জন নিহত হয়েছেন। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের ১০ থেকে ১২টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।

রবিবার (৩১ মে) দুপুরে বেগমগঞ্জ উপজেলার খানপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী জসিমের নির্মাণাধীন বাড়িতে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

এর জেরে শনিবার রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের পাকমুন্সিরহাট বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে জোবায়ের হোসেন ওরফে রাকিব (২৩) নামে এক তরুণকে পথরোধ করে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহত রাকিব একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে। তিনি তার প্রবাসী চাচার নির্মাণাধীন বাড়ির দেখাশোনা করতেন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের কথাকাটাকাটি হয়।

শনিবার রাতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য পাকমুন্সিরহাট বাজারে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। একপর্যায়ে রাকিবকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হলে তিনি ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে বাজারসংলগ্ন একটি অন্ধকার স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে হামলা চালায়। ভাইকে রক্ষা করতে গেলে রিমনও আহত হন।

পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত মামুনের বাড়িসহ ১০ থেকে ১২টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।

অপরদিকে, সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জুয়া খেলার আসরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছেলে ও ভাতিজাকে রক্ষা করতে গিয়ে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন নিহত হন।

পুলিশ দুটি ঘটনার নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন আল মুলক জানান, দুটি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ ও সংঘর্ষ চলে আসছে।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) শীরাম চন্দ্র ভট্টাচার্য জানান, জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পৃথক দুটি ঘটনায় নিহতদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।