কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলে মৃদু তাপদাহ অব্যাহত, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলে মৃদু তাপদাহ অব্যাহত, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

ফাইল ছবি

 

কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় টানা প্রায় সাত দিন ধরে মৃদু তাপদাহ অব্যাহত রয়েছে। তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত এক সপ্তাহে জেলার তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।

এ অবস্থা আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়া বিভাগে বিভিন্ন এলাকা থেকে ১২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

এছাড়া গতকাল জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

নাগেশ্বরী উপজেলায় বজ্রপাতে দুটি গরুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রচণ্ড রোদ ও তাপদাহে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। দুপুরের পর শহরের রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষরা সকালেই কাজে বের হলেও তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে পারছেন না।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের সামনে শুলকুর বাজার এলাকার বাসিন্দা নিজাম মিয়া বলেন, তার এক বছরের শিশু গত তিন দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রাজাহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত কয়েক দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, এ ধরনের ভ্যাপসা গরমে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

তিনি রোদে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার, ছাতা ব্যবহারের এবং ডাবের পানি ও পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন।