রিয়ালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনী ব‍্যবস্থা নিবে ম্যানসিটি

রিয়ালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনী ব‍্যবস্থা নিবে ম্যানসিটি

ছবি: সংগৃহীত

টানা দুই মৌসুম কোনো বড় ট্রফি না পেয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর অন্দরমহলে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমনের অংশ হিসেবেই আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। বিগত ২০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পার পাচ্ছেন না বর্তমান সফল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। আর পেরেজের সিংহাসন কাঁপাতে ৩৭ বছর বয়সী রিনিউয়েবল এনার্জি ব্যবসায়ী এনরিকে রিকেলমে এবার মাঠে নেমেছেন এক অবিশ্বাস্য ও জাদুকরি নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে। 

এমনকি সরাসরি ম্যানচেস্টার সিটির দুই প্রাণভোমরা আর্লিং হালান্ড এবং রদ্রিকে রিয়ালে আনার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন তিনি, যা দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ম্যান সিটি।

বুধবার স্প্যানিশ টেলিভিশনের এক লাইভ শো-তে হাজির হয়ে এনরিকে রিকেলমে সরাসরি আর্লিং হালান্ডের নাম লেখা রিয়াল মাদ্রিদের একটি জার্সি উঁচিয়ে ধরেন। তিনি দাবি করেন, "হালান্ডের চুক্তিতে রিলিজ ক্লজ রয়েছে এবং ও নিজে রিয়ালে আসতে চায়। আমি সভাপতি নির্বাচিত হলেই ও রিয়ালের জার্সি গায়ে জড়াবে।" এখানেই থামেননি তিনি, সিটির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রদ্রিকেও মাদ্রিদে আনার কথা জানিয়ে বলেন, "আমরা রদ্রির এজেন্টের সাথে কথা বলেছি। রিয়াল মাদ্রিদের এই পজিডিশনটা মজবুত করা দরকার, আমি সভাপতি হলে ও আসবেই।"

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে নিজেদের ফুটবলারদের এমন প্রকাশ্য ও অনৈতিক ব্যবহার দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি কর্তৃপক্ষ। অবিলম্বে হালান্ডের বাবা আলফে ইঙ্গে ও তার এজেন্ট রাফায়েলা পিমেন্তা যৌথ বিবৃতি দিয়ে স্প্যানিশ মিডিয়ার এই খবরকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও বিনোদনমূলক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সিটির পক্ষ থেকেও এক কড়া বার্তায় বলা হয়েছে, "হালান্ডকে নিয়ে স্পেনে যা রটানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমন কোনো ক্লজ চুক্তিতে নেই। আমাদের খেলোয়াড়ের ইমেজ এভাবে নোংরা প্রচারণায় ব্যবহার করার বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছি।" ২৯ বছর বয়সী রদ্রিও পুরো বিষয়টি নিয়ে শান্ত থেকে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের পরই তিনি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলবেন।

৭৯ বছর বয়সী পেরেজকে হটাতে তরুণ রিকেলমে ভোটারদের (ক্লাব সদস্য বা মাদ্রিদিস্তাদের) জন্য উপহারের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সভাপতি হলে ক্লাবের রিয়াল মাদ্রিদ সিটির আশেপাশে সমর্থকদের জন্য একটি বিশালাকার ‘মেম্বারস সিটি’ তৈরি করবেন; যেখানে থাকবে বিলাসবহুল সুইমিং পুল, প্যাডেল কোর্ট এবং বাস্কেটবল স্টেডিয়াম! এমনকি আগামী মৌসুমে দল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে না পারলে বার্ষিক মেম্বারশিপ ফি সরাসরি ৫০% মওকুফ করে দেওয়ার মতো অবাস্তব টোপও দিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি, বর্তমান সভাপতি পেরেজ কর্তৃক রিয়ালের নতুন ডাগআউট বস হিসেবে জোসে মরিনহোকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন রিকেলমে। পেরেজ জিতলে মরিনহোর নিযুক্তি নিশ্চিত হবে, তবে রিকেলমের তুরুপের তাস হলেন লিভারপুলের সাবেক মাস্টারমাইন্ড জার্গেন ক্লপ, যাকে কোচ করার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন তিনি।

রিকেলমের এই আকাশকুসুম প্রতিশ্রুতিকে ‘অবাস্তব ও সস্তা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে পেরেজের নির্বাচনী ক্যাম্প। ট্রফিশূন্য মৌসুমের দায় স্বীকার করেও পেরেজ বুধবার বলেন, "ফুটবলে সবসময় জেতা যায় না। ক্লাব বিশ্বকাপের কারণে আমাদের খেলোয়াড়রা প্রি-সিজন প্রস্তুতি নিতে পারেনি এবং মৌসুমের শুরুতে একসাথে প্রায় ৩০ জন ফুটবলার ইনজুরিতে পড়েছিল, যা আমাদের পুরো বছর ভুগিয়েছে।" 

জাবি আলনসোকে বরখাস্ত করে আলভারো আরবেলোয়াকে আনার পর ড্রেসিংরুমের যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৈরি হয়েছিল, তা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সাথে পেরেজ জানান, তিনি জিতলেই রিয়ালে যোগ দেবেন লিভারপুলের সাবেক ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে এবং ইন্টার মিলানের ডেনজেল ডামফ্রিস, যাদের সাথে ইতিমধ্যেই রিয়ালের চুক্তি সম্পন্ন হয়ে আছে।

ভোটের লড়াই এতটাই নোংরা রূপ নিয়েছে যে, রিকেলমে যখন পুতুল ও কমেডি শোর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘এল হর্মিগুয়েরো’-তে লাইভ ইন্টারভিউ দিচ্ছিলেন, তখন পেরেজের নির্বাচনী দল ওই চ্যানেলের বিজ্ঞাপনের স্লট কিনে সরাসরি জোসে মরিনহোকে নতুন কোচ হিসেবে ঘোষণা করে রিকেলমেকে চরমভাবে উপহাস করে। একদিকে ম্যান সিটির আইনি হুমকি, অন্যদিকে মরিনহো বনাম ক্লপ এবং হালান্ড বনাম ডামফ্রিসের এই অবিশ্বাস্য সমীকরণ- সব মিলিয়ে ব্যালট পেপার জমার আগেই ২০২৬ সালের লা লিগার শেষ লগ্নে রিয়াল মাদ্রিদের এই গৃহযুদ্ধ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর নির্বাচন হিসেবে রূপ নিয়েছে।