কতটা ও কিভাবে মাখা উচিত সানস্ক্রিন?
ফাইল ফটো
বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে অনেকেই তড়িঘড়ি করে সানস্ক্রিন লাগিয়ে নেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, একবার লাগালেই যথেষ্ট নয়, ঘাম হলেই বারবার নতুন করে ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সানস্ক্রিন কতবার লাগানো হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক নিয়মে তা ব্যবহার করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন। ফলে ত্বক পর্যাপ্ত সুরক্ষা পায় না। আবার কেউ অতিরিক্ত পরিমাণে মেখে ফেলেন, যা সংবেদনশীল ত্বকে অস্বস্তি বা র্যাশের কারণ হতে পারে।
তাই সানস্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রকাশিত গবেষণাগুলোতে ‘টু-ফিঙ্গার রুল’-এর কথা বলা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের পুরো দৈর্ঘ্য জুড়ে যতটা সানস্ক্রিন বের হয়, সেটাই মুখ ও গলার জন্য আদর্শ পরিমাণ। এই পরিমাণ ব্যবহার করলে ত্বক প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পেতে পারে।
শুধু পরিমাণ নয়, সানস্ক্রিন লাগানোর কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা ‘ডাবল লেয়ার’ বা দুই স্তরে সানস্ক্রিন ব্যবহারের একটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন। এতে প্রথমে মুখ, গলা এবং খোলা ত্বকের অংশে সমানভাবে সানস্ক্রিন লাগাতে হয়। এরপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে, যাতে এটি ত্বকের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যেতে পারে। তারপর একইভাবে আরেকটি স্তর প্রয়োগ করতে হবে।
গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতিতে ত্বকের ওপর একটি শক্তিশালী সুরক্ষাবলয় তৈরি হয়। ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে না। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলেও ত্বকে কালচে দাগ, রোদে পোড়া ভাব কিংবা অন্যান্য ক্ষতির ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, বাংলাদেশের মতো গরম ও রৌদ্রপ্রধান আবহাওয়ায় সাধারণত এসপিএফ ৩০ যুক্ত সানস্ক্রিন দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট। তবে যাদের ত্বক খুব সংবেদনশীল, ব্রণপ্রবণ বা অন্য কোনো ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্তরে সানস্ক্রিন ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ত্বক সুরক্ষায় তাই শুধু দামি বা জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভর করলেই হবে না। সঠিক পরিমাণ, সঠিক সময় এবং সঠিক নিয়মে সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই মিলতে পারে সর্বোচ্চ সুরক্ষা।