বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য

বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য

ফাইল ছবি

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্য অর্জনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষিপণ্য ও বিভিন্ন উৎপাদন খাতে করছাড়ের বড় ধরনের ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে। 

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করবেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, গবাদি পশু, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের আশা, এতে সরবরাহ ব্যয় কমবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা লাঘব হবে।

এ ছাড়া ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান তিন লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরবর্তী বছরগুলোতে ধাপে ধাপে এই সীমা আরো বাড়ানো হবে।

স্বাস্থ্য, তথ্য-প্রযুক্তি, পরিবহন ও শিল্প খাতেও একাধিক করছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে। কিডনি ডায়ালিসিস ফিল্টার আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহার, ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে কর অব্যাহতি, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে কর হ্রাস এবং মোবাইল ফোন শিল্পের কাঁচামালে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে মূল্যস্ফীতি কমানোর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। গত মে মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ডলারের উচ্চ মূল্য এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে বাজেটের কেন্দ্রীয় লক্ষ্য হিসেবে বাস্তবায়ন করতে না পারলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো কঠিন হবে। বিশেষ করে নিু ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর চাপ আরো বাড়তে পারে।