বিশ্বকাপে টিকিটের চাহিদা ১০ গুণ বেশি, অথচ গ্যালারির অনেকটা ফাঁকা
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই দেখতে ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শকের উপস্থিত ছিলেন। এত দর্শকের উপস্থিতিতে জমজমাট পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিনেই গ্যালারিতে দেখা গেল এক ভিন্ন ও হতাশাজনক চিত্র। তা হলো সারিবদ্ধ ফাঁকা আসন, যা আবারও টুর্নামেন্টের দর্শক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বৃহস্পতিবার গ্রুপ ‘এ’-এর একটি ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে হারায় দক্ষিণ কোরিয়া। তবে এই ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে গ্যালারির শূন্যতা ও ফাঁকা আসনের দৃশ্য।
ফিফার অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী, ৪৬ হাজার আসনবিশিষ্ট গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে ম্যাচে ৪৪ হাজার ৯৮৫ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু টেলিভিশন ফুটেজ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গ্যালারির একাধিক সারিতে শত শত আসন খালি পড়ে আছে, যা সহজেই চোখে পড়ে।
স্থানীয় দর্শকদের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ টিকিটের চড়া মূল্য। তাদের মতে, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে বিশ্বকাপের টিকিটের দাম, ফলে অনেকেই মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে পারছেন না।
এদিকে, ম্যাচ শুরুর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে টিকিটের দাম নিয়ে সমালোচনার জবাব দেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। তিনি দাবি করেন, টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ৬০ ডলার, যা অন্যান্য বড় ক্রীড়া ইভেন্টের তুলনায় কম। এছাড়া, তিনি জানান, টিকিটের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি।
তবে বিভিন্ন সমর্থক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে টিকিটের দাম গড়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। এতে করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।