চট্টগ্রামে বসতঘরে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, শিশু ছেলে আহত

চট্টগ্রামে বসতঘরে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, শিশু ছেলে আহত

প্রতিকি ছবি

 

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঘরের ভেতরে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়াপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।  

নিহতরা হলেন সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার কন্যা প্রিয়ন্তি বড়ুয়া (১৬)। এ সময় পাঁচ বছর বয়সি ছেলে পিয়াস গুরুতর আহত হয়েছে

 

সুজন চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জে নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে সুজনের ঘর থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে যান। তারা সেখানে গিয়ে ঘরের দরজায় এনিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। ছেলে পিয়াস তার কোলে ছিল।

হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে নিতে একপর্যায়ে তিনি ঢলে পড়েন। পরে ঘরে ঢুকে প্রিয়ন্তির রক্তাক্ত নিথর দেখতে পান। পিয়াসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তার মা ও বোন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক জখম রয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে তদন্তের আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সুজন বড়ুয়া জানান, শনিবার রাতে ফোন পেয়ে তিনি চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফিরে নিজের স্ত্রী কন্যার নিথর দেহ দেখতে পান।

পরে প্রতিবেশীদের কাছে জানতে পারেন, মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী তার চাচাতো ভাই তেজ বড়ুয়ার নাম বলে গেছেন। তেজ বড়ুয়া বেকার জীবনযাপন করায় গাড়ি কেনার জন্য বিভিন্ন সময়ে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এটা নিয়ে একটা স্ট্যাম্প ছিলো। সেটা চুরি করতে তেজ বড়ুয়া এই ঘটনা ঘটাতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, এই ঘটনার পর অভিযুক্ত তেজ বড়ুয়া পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে। শিগ্‌গিরই জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া মামলা দায়ের ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। আহত পিয়াস চিকিৎসাধীন আছে। তবে সে বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।

মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নিহত প্রিয়ন্তির সহপাঠীরা জড়ো হয়ে বিচার দাবি করেন