আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ

আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ

প্রতিকি ছবি

নেত্রকোনায় মাদক সেবন এবং বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা সভায় জোর দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা। তবে প্রশাসন বলছে, শুধু সভায় নয়, বাস্তবে সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

রবিবার (১৪ জুন) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় বিভিন্ন দপ্তর, আইনজীবি, সামাজিক ও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক, বিজিবির মহা পরিচালক মো. মহিদুল, আটপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহনূর রহমান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল কাদের সুজাসহ অনেকেই।

এ সময় ২০দলীয় জোটের পক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার বিষয়টি  উত্থাপন করা হয়। তবে পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে একটা চক্র সমাজে নানা অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করার অনুরোধ জানান এসপি। তিনি সাতদিন সামাজিকভাবে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বাড়িঘর ঘিরে রেখে কাউকে যাতায়াত করতে না দেয়ার পরামর্শও দেন।

এসপি আরও বলেন, সন্ধ্যার পরে বাইরে থাকা সন্তানদের অভিভাবকরা কেন খোঁজ করেন? একদিনে তো আর মাদকের গ্রাসে পড়ে না কেউ। ধীরে ধীরেই যায়। তাই অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি। অভিভাবকরা খোঁজ রাখলেই মাদকের হাত থেকে রেহাই পাবে সমাজ। 

গত ১ জুন থেকে ১০ জুনে জেলায় ৬ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। যা সামাজিক অস্থিরতা এর মূল কারণ বলে উল্লেখ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি মাদক নিমূলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, রাতে চা খেতে আড্ডা দিতে যাবে, এসব বিষয়ে পরিবারকেই সামলাতে হবে। সন্ধ্যার পর থেকে সন্তানদের ঘরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জুমার খুতবায় জুয়া, মদ, নারী নির্যাতন ও মাদকের বিরুদ্ধে মসজিদ, মন্দিরসহ ধর্মীয় উপসনালয়ে আলোচনার আহ্বান জানান।