মাথাব্যথার সঙ্গে এসব লক্ষণ থাকলে অবহেলা করবেন না
ছবি: সংগৃহীত
মাথাব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। কাজের চাপ, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা কিংবা মানসিক উদ্বেগের কারণে অনেকেরই মাঝেমধ্যে মাথাব্যথা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক এবং তেমন গুরুতর নয়।
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সব মাথাব্যথাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাথাব্যথা শরীরের ভেতরে চলতে থাকা জটিল কোনো সমস্যার পূর্বাভাসও হতে পারে।
মাথাব্যথার সঙ্গে কোন লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন, চলুন জানা যাক-
মাথা ঘোরা
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথাব্যথার সঙ্গে যদি মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, কানে অস্বস্তি বা চারপাশ ঘুরছে বলে মনে হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। বিশেষ করে এমন ঘটনা যদি বারবার ঘটে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় মাইগ্রেনের রোগীদের মধ্যেও এমন লক্ষণ দেখা যায়।
চোখে ঝাপসা দেখা
মাথাব্যথার সঙ্গে চোখে ঝাপসা দেখা, আলোর ঝলকানি অনুভব করা বা দৃষ্টিশক্তির সাময়িক পরিবর্তন হওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হতে পারে। অনেকেই এসব লক্ষণকে ক্লান্তির ফল মনে করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে এগুলো স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই এ ধরনের পরিবর্তন বারবার হলে অবহেলা করা উচিত নয়।
কথা বলতে অসুবিধা হওয়া
মাথাব্যথার সঙ্গে কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়া বা দুর্বলতা অনুভব করাও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ মাথাব্যথার সঙ্গে এমন লক্ষণ যুক্ত হলে তা সাধারণ মাথাব্যথার সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জ্বর-বমি
চিকিৎসকদের মতে, যদি মাথাব্যথার সঙ্গে জ্বর, বমি, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা তীব্র অস্বস্তি থাকে, তাহলে তা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। আবার দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের মাথাব্যথা হয়ে আসছে, তার ধরন বা তীব্রতা হঠাৎ বদলে গেলেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ শরীর অনেক সময় এভাবেই ভেতরের সমস্যার সংকেত দেয়।
সাধারণ মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের মধ্যে পার্থক্য
মাইগ্রেন এমন একটি সমস্যা, যা শুধু মাথাব্যথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে বমিভাব, আলো ও শব্দের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা, মাথা ঘোরা এবং দৃষ্টিগত পরিবর্তনের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। গবেষকদের মতে, মস্তিষ্কের কিছু স্নায়বিক পরিবর্তনের কারণে মাইগ্রেনের আক্রমণ হতে পারে।
মাথাব্যথার কারণ
মাথাব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে এমন কিছু সাধারণ কারণও রয়েছে। যেমন অতিরিক্ত মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার, খাবারের অনিয়ম, উজ্জ্বল আলো, উচ্চ শব্দ কিংবা কিছু নির্দিষ্ট খাদ্য। তবে প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে কারণ এক নয়। তাই কোন পরিস্থিতিতে মাথাব্যথা বাড়ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
মাথাব্যথা কমাতে করণীয়
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বারবার ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে সমস্যাকে চাপা না দিয়ে মূল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ অনেক ক্ষেত্রেই মাথাব্যথা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি কখন মাথাব্যথা হচ্ছে, কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে এবং তার সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না, তা লিখে রাখলে চিকিৎসকের জন্য রোগ নির্ণয় সহজ হয়।
মাথাব্যথা সব সময় ভয়ঙ্কর কোনো রোগের লক্ষণ নয়। তবে এর সঙ্গে যদি অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ যুক্ত হয়, ব্যথা হঠাৎ তীব্র হয়ে ওঠে বা আগের চেয়ে ভিন্ন ধরনের মনে হয়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।