ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠন ও মালিকানা ফেরতের দাবি

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠন ও মালিকানা ফেরতের দাবি

সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং ব্যাংকটির ‘প্রকৃত মালিকদের’ কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। সংগঠনটির পক্ষে দাবি করা হয়, ব্যাংকটিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরনবী মানিক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‍“ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি ব্যাংক নয়, এটি দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থা ও জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রেমিট্যান্স প্রবাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের বড় একটি অংশ এই ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশিদ আলমের নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে অপসারণের পর থেকে ব্যাংকটির সুশাসন ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় গত ২৪ মে থেকে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন গ্রাহকরা।

ফোরামের নেতারা দাবি করেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমদ ও ড. ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে তারা ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। সেখানে একটি গ্রহণযোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত শুধু চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে প্রত্যাহার এবং তারল্য সংকট মোকাবিলায় কিছু অর্থ সহায়তা দিয়েছে। তবে, ব্যাংকের সার্বিক সংকট সমাধানে গ্রাহক ফোরামের উত্থাপিত সাত দফা দাবির কোনো কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকটির মালিকানা নিয়ে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন এবিবির বিভিন্ন মতামতও তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করা হয়।

গ্রাহক ফোরামের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- সৎ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ব্যাংকের মালিকানা আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিতর্কিত ধারা সংশোধন এবং ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে দেওয়া ‘অসত্য বক্তব্য’ প্রত্যাহার।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক নুরনবী মানিক বলেন, “ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়। এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।”

দাবি আদায়ে আগামী ২১ জুন ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এবং ২২ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। তারা সতর্ক করে বলেছেন, দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।