ড্রেসিংরুমে ফের রহস্যময় চিঠি রেখে গেল ইরান, কী লেখা ছিল তাতে?
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে ইরান। মাঠে শেষ মুহূর্তের বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্তে জয় হাতছাড়া, আর মাঠের বাইরে আমেরিকার সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত। এর মাঝেও ইরানি ফুটবলাররা দেখিয়েছেন অসাধারণ দেশপ্রেম ও ফেয়ার প্লের উদাহরণ।
সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। একেবারে শেষ দিকে শোজা খলিলজাদেহের করা গোলটি ভিএআরে বাতিল হয়ে যাওয়ায় জয়ের সুযোগ হারায় ইরান। এই ড্রয়ে মিশর গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। ইরানকে এখন আলজেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও কঙ্গোর ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। একই দিনে গ্রুপের অন্য ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে উঠে গেছে বেলজিয়াম।
চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণে প্রত্যেক ম্যাচের পরই ইরান দলকে দ্রুত মেক্সিকোর তিজুয়ানায় তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ফিরে যেতে হয়। গত শুক্রবার মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ চলার সময়ও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবুও হতাশা আর উত্তেজনার মাঝে সিয়াটলের লকার রুমে একটি হাতে লেখা চিঠি রেখে গেছে ইরানি খেলোয়াড়রা। চিঠিতে তারা লিখেছে-
আমরা ইরান থেকে এসেছি...এমন এক ভূমি থেকে, যা হাজার বছর ধরে বিজয়ের চেয়েও সম্মানকে সবার ওপরে স্থান দিয়েছে। আমাদের কাছে ফুটবল কেবল ফলাফলের প্রতিযোগিতা নয়, এটি চরিত্রের পরীক্ষা। পয়েন্ট হয়তো বহু উপায়ে জেতা সম্ভব, কিন্তু সম্মান ও শ্রদ্ধা এভাবে জেতা যায় না। হয়তো যেকোনো দলই গ্রুপ পর্ব পার হয়ে যেতে পারে, কিন্তু কেবল সততা আর সম্মানের মাধ্যমেই ইতিহাসের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যায়। ‘ফেয়ার প্লে’ ফুটবলের নিয়মের কোনো সাধারণ লাইন নয়, এটি এই খেলার আত্মা। সিয়াটল, আপনাদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ। আর ধন্যবাদ সেই সব ইরানিকে... যারা ইরানের জন্য তাদের হৃদয়, কণ্ঠস্বর এবং নিজেদের পুরো সত্তা উজাড় করে দিয়েছেন। ইরান সবসময় মাথা উঁচু করেই থাকবে।
এর আগে বেলজিয়ামের সঙ্গে ০-০ গোলে ড্র ম্যাচের পর লস অ্যাঞ্জেলেসের ড্রেসিং রুমেও একই রকম আবেগঘন চিঠি রেখে এসেছিল ইরান দল। সেখানে প্রাচীন পারস্য সভ্যতার গৌরব ও ইরানের অবিচল আত্মার কথা তুলে ধরা হয়।