মাছি উড়তেই মিলল মাটিচাপা লাশ, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

মাছি উড়তেই মিলল মাটিচাপা লাশ, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

প্রতিকি ছবি

তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন এক ব্যক্তি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। শেষ পর্যন্ত বাড়ির পাশেই মাছির আনাগোনা দেখে সন্দেহ হয় স্বজনদের। সেখানে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে মানুষের একটি হাত। পরে পুলিশ এসে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ।

সোমবার সকালে বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরমালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে (৪২) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত মো. হারুন হাওলাদার (৬০) চরমালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের ছেলে এইচ এম জাফর হাওলাদার জানান, গত ২৭ জুন রাত থেকে তার বাবা নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার মা জানান, গভীর রাতে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বাড়িতে এসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার বাবাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় থানায় অপহরণের অভিযোগও করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও বাবার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে রান্নাঘরের পাশের একটি স্থানে অস্বাভাবিকভাবে মাছি উড়তে দেখে সন্দেহ হয়। পরে সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করলে মাটির নিচ থেকে একটি হাত বেরিয়ে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
জাফর হাওলাদারের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ তার মাকে সন্দেহের তালিকায় রাখে। মোবাইল ফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের পর তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার মা এবং তার কথিত পরকীয়ার এক সহযোগী মিলে তার বাবাকে হত্যা করেছেন। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কারও পরিচয় নিশ্চিতভাবে বলতে রাজি হননি।

মুলাদী থানার ওসি কেএম সোহেল রানা বলেন, “নিখোঁজ হারুন হাওলাদারের মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রীকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।