টাক মাথায় চুল গজাতে বায়োটিন গামি কেমন কাজ করে?
ফাইল ছবি
টাক পড়া কমানো আর নতুন চুল গজানোর আশায় এখন অনেকেই বায়োটিন গামি লজেন্স খাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়া, বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্ট থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপন—সব জায়গায় দাবি করা হচ্ছে, এই সাপ্লিমেন্ট খেলে নাকি দ্রুত চুল গজায়।
কিন্তু বাস্তবে টাক মাথায় চুল গজাতে বায়োটিন গামি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছে ভিন্ন মত।
বায়োটিন কী এবং চুলে কিভাবে কাজ করে
বায়োটিন হলো ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের একটি অংশ, যাকে ভিটামিন বি৭ও বলা হয়। এটি শরীরে কেরাটিন নামের একটি প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে। এই কেরাটিন চুল, ত্বক এবং নখের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই শরীরে বায়োটিনের ঘাটতি থাকলে চুল দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, ভেঙে যেতে পারে বা অতিরিক্ত ঝরতে পারে। এই কারণে অনেকেই মনে করেন বায়োটিন গামি খেলেই চুল গজাবে।
তবে আসল সমস্যা কোথায়?
চিকিৎসকদের মতে, চুল পড়ার সমস্যা সবসময় বায়োটিনের ঘাটতির কারণে হয় না। এর পেছনে থাকতে পারে—
- জেনেটিক (পারিবারিক) কারণ
- হরমোনের পরিবর্তন
- দীর্ঘদিনের স্ট্রেস
- থাইরয়েড বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা
- অপুষ্টি বা অনিয়মিত জীবনযাপন
এই কারণে শুধু বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট খেলে অনেক সময় কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে না।
বায়োটিন গামি কতটা কার্যকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়োটিন গামি তখনই কিছুটা কাজে আসতে পারে যখন শরীরে সত্যিই বায়োটিনের ঘাটতি থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি থাকে না।
তাছাড়া বাজারে পাওয়া অনেক গামিতে প্রয়োজনীয় ডোজও যথেষ্ট থাকে না। ফলে নিয়মিত খেলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।
কতদিনে ফল পাওয়া যায়?
চুলের গ্রোথ একটি ধীর প্রক্রিয়া।
সাধারণত কোনো সাপ্লিমেন্ট কাজ করলে সেটি বোঝা যেতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগে। কিন্তু বায়োটিন গামি খেলে দ্রুত “টাক ভরে যাবে”—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী হতে পারে?
অতিরিক্ত বায়োটিন গামি খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন—
- পেট খারাপ
- ডায়রিয়া
- কোষ্ঠকাঠিন্য
- বমিভাব
- কিছু ক্ষেত্রে অ্যালার্জি (র্যাশ, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট)
এছাড়া অতিরিক্ত চিনি থাকার কারণে ওজন বৃদ্ধি বা দাঁতের সমস্যাও হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ কী?
চিকিৎসকরা বলছেন, চুল পড়ার সমস্যায় আগে কারণ জানা জরুরি। শুধু বিজ্ঞাপন দেখে সাপ্লিমেন্ট শুরু করা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনেই চুলের সমস্যা অনেকটা কমে আসে।
কেনার আগে কী বিষয় খেয়াল রাখবেন?
- বায়োটিনের পরিমাণ কতটা আছে
- সঙ্গে কোন ভিটামিন ও মিনারেল যুক্ত আছে
- আপনার কোনো অ্যালার্জি আছে কি না
- পণ্যটি নিরামিষ/ভেগান কি না
- অতিরিক্ত চিনি আছে কি না
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়োটিন গামি চুলের যত্নে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এটি টাক মাথায় চুল গজানোর কোনো নিশ্চিত সমাধান নয়। সঠিক কারণ নির্ণয়, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শই চুল পড়া কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।