বিশ্বকাপে নিজের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট নন নেইমার

বিশ্বকাপে নিজের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট নন নেইমার

ফাইল ছবি

চোট নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন নেইমার। এখন পর্যন্ত সেভাবে মাঠে নামারই সুযোগ মেলেনি। গ্রুপপর্বে এক ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে কয়েক মিনিট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। পরে রাউন্ড অব বত্রিশে তাকে আর নামাননি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। 

আগামীকাল (রোববার) রাতে শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেলেসাও সমর্থকদের অনেকেরই প্রশ্ন এবার কি দেখা যাবে ব্রাজিল ‍সুপারস্টারকে? অবশ্য তেমন আশার কথা শোনা যায়নি এখনো। 

এরই মধ্যে নেইমারকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন ব্রাজিল কোচ। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত নিজের সীমিত ভূমিকা নিয়ে নাম্বার টেন সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। তবে পুরো পরিস্থিতি তিনি বেশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং পুরো দলের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন। 

ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র এক ম্যাচে বদলি হিসেবে খেলতে নেমেছিলেন। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের ম্যাচে শেষ ১৪ মিনিট মাঠে ছিলেন। 

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববার নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ৩৪ বছর বয়সী নেইমার আবারও বদলি বেঞ্চে থাকবেন। ব্রাজিলিয়ান পত্রিকা ফোয়া ডি সাও পাওলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমার মোটেই সন্তুষ্ট নয়। কিন্তু সে শান্ত আছে। অনুশীলনেও ভালো করছে। নেইমার সতীর্থদের কাছে খুবই শ্রদ্ধার একজন খেলোয়াড়। সবাই তাকে অনেক ভালোবাসে। দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দলে নেইমারের প্রভাব অপরিসীম। ব্যক্তি হিসেবেও নেইমার অসাধারণ। তাকে দলে পেয়ে আমি দারুণ খুশী। অবশ্যই প্রতি ম্যাচেই সে খেলতে চায়।’

ডান পায়ের কাফ পেশিতে ইনজুরি নিয়ে টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছেন নেইমার। আনচেলত্তি ইঙ্গিত দিয়েছেন নেইমার এখন পুরো ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত। যদিও বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই সুপারস্টারের ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে এখনও কিছু শঙ্কা রয়েছে।  

আনচেলত্তি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নেইমার খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে কেউই জানে না কতক্ষণ সে খেলতে পারবে। ম্যাচের ছন্দ ধরে রাখার মতো অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। দলে যখনই তার প্রয়োজন হবে আমি তাকে মাঠে পাঠাবো।’

এর আগে চারবারের মোকাবিলায় কখনোই নরওয়েকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল। এর মধ্যে দুটি ম্যাচ ড্র ও দুটিতে পরাজিত হয়েছে সেলেসাওরা। এছাড়া ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর এখন পর্যন্ত নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপীয়ান দলকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল। 

আনচেলত্তি বলেন, ‘নরওয়ের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন। কিন্তু একটি ভালো ম্যাচ উপহার দেওয়ার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী। রক্ষণভাগে নরওয়ে বেশ গোছানো একটি দল। আমরা সবকিছুর জন্যই প্রস্তুতি নিয়েছি। হয়তো আমরা গোল হজম করতে পারি, কিন্তু তার থেকে বেরিয়ে আসার কৌশলও আমরা জানি।’