কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ, তিন মাস কর্মহীন মৎস্যজীবীরা
সংগৃহীত ছবি
কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রজনন বৃদ্ধি ও মা মাছ সংরক্ষণের লক্ষ্যে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রাঙামাটির মৎস্যজীবীরা। টানা তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন জেলার ২৬ হাজার ৮৪৫টি নিবন্ধিত জেলে পরিবার। এরই মধ্যে দুই মাস পার হলেও অনেক পরিবার দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটে দিন কাটাচ্ছে।
রাঙামাটির বিভিন্ন জেলেপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, একসময় যেখানে সারাদিন কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরার ব্যস্ততা থাকত, সেখানে এখন ঘাটে বাঁধা পড়ে আছে নৌকা, অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে মাছ ধরার জাল। জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেউ দিনমজুরের কাজ করছেন, কেউ আবার অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। তবে অনেকেই কোনো কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে কেউ কেউ অবসর সময়ে পুরোনো জাল মেরামত করেই সময় কাটাচ্ছেন।
জেলে গোপাল দাশ বলেন, সরকারিভাবে প্রতি মাসে ২০ কেজি চাল দেওয়া হলেও তা দিয়ে একটি পরিবারের প্রয়োজন মেটে না। চালের সঙ্গে ডাল, তেল, লবণ, সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হয়। পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও বিদ্যুৎ বিলও রয়েছে। শুধু চাল দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়।
আরেক জেলে শ্রীরাম দাশ বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমনকি অর্থাভাবে নাতির পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের নয় মাস মাছ ধরে কোনোভাবে সংসার চললেও নিষেধাজ্ঞার তিন মাস তাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময়। এই সময়ে বিকল্প কর্মসংস্থান বা পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার অভাবে অধিকাংশ জেলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) রাঙামাটি ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, নিবন্ধিত জেলেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভিজিএফের চালের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে মাছ আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ওপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ সময় হ্রদে সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে।