গাইবান্ধায় তিন নদীর পানি বৃদ্ধি, কমেছে করতোয়ার

গাইবান্ধায় তিন নদীর পানি বৃদ্ধি, কমেছে করতোয়ার

সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে করতোয়া নদীর পানি কমেছে। এসব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি বা কমলেও এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে।

শনিবার গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিকাল ৩টার তথ্য অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।

পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৬ সেন্টিমিটার (সেমি) বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১১০ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘাঘট নদের পানি ১ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৬৫ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি ৮ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬১ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে করতোয়া নদীর পানি ৫৪ সেমি হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ২৬২ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চলমান এই বন্যার মৌসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

এদিকে গত এক মাস ধরে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। আর এই পানি ওঠা-নামার সঙ্গে নদী তীরবর্তী ২৫টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার।

জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীর তীরবর্তীসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি ও বসতবাড়ির ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে ও বাড়িঘর হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা। গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি, শহর রক্ষাবাঁধ, ফুলছড়ির বালাসী ফেরিঘাট, সাঘাটা উপজেলার শহরসহ বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মধ্য রয়েছে। ভাঙন রোধে আসন্ন বন্যার আগেই ব্যবস্থা না নিলে জেলার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জায়গায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে।