তিন জেলায় পানিতে ডুবে ৭ শিশুর মৃত্যু

তিন জেলায় পানিতে ডুবে ৭ শিশুর মৃত্যু

প্রতিকী ছবি

ময়মনসিংহের পৃথক উপজেলায়, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও কক্সবাজারের উখিয়ায় পানিতে ডুবে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে পানিতে ডুবে একদিনে দুই বোনসহ ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার গৌরীপুরে দুজন, গফরগাঁও একজন ও ফুলপুরে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা শিশুরা হলো- রিয়ামনি (৮), ইলমা (৪), মুনতাহা (২) ও লামিয়া আক্তার (৪)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরে ছোট বোন ইলমাকে নিয়ে পুকুর পাড়ে যায় রিয়ামনি। এ সময় ইলমা কাঁদায় পড়ে যায়। পরে কাঁদা ধোঁয়ার জন্য পুকুরে নামলে ডুবে যায়। এ সময় তাকে উদ্ধারে রিয়ামনি পানিতে নামলে সেও তলিয়ে যায়। বিষয়টি আরেক শিশু সুমাইয়া দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের জানায়। স্বজনরা তাৎক্ষণিক পুকুরপাড়ে গিয়ে রিয়ামনিকে পানিতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, নিখোঁজ ইলমাকে স্থানীয়রা দুই দফা খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তারা এসেও উদ্ধার করতে না পারলে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে জানানো হয়। ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় পুকুর থেকে ইলমার মরদেহ উদ্ধার করে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার সাইফুল ইসলাম ও গৌরীপুর থানার ওসি হাবিবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গফরগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “রবিবার দুপুরে উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নের বাগুয়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে মুনতাহা নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মুনতাহা ওই গ্রামের শামছুল আলমের মেয়ে।”

তিনি আরো বলেন, “দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে শিশুটি বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে মুনতাহাকে উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

ফুলপুর থানার ওসি মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, “বেলা ৩ টার দিকে উপজেলার বেলটিয়া গ্রামে বাড়ির পাশে পানিতে ডুবে লামিয়া আক্তার নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। লামিয়া ওই গ্রামের মো. সায়েদুল ইসলামের মেয়ে।”

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় নালার পানিতে ডুবে দ্বিতীয় শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকার একটি নালা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলো- ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের রাবাইতারী গ্রামের নূর হোসেনের মেয়ে মোছা. লুশি খাতুন (৯) এবং বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে মোছা. আরশী (৮)। তারা দুজনই রাবাইতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাইম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কক্সবাজার

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বর্ষণে ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ৪ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৫ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মোহাম্মদ শফিক (৬) একই এলাকার বাসিন্দা মুহিব উল্লাহর ছেলে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে উখিয়াসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন জলাধারে পানি জমে যাওয়ার পাশাপাশি নালা ও খাল দিয়ে অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

রবিবার বিকেলে ৪ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৫ ব্লকের একটি জলাধারের পাশে মোহাম্মদ শফিকসহ কয়েকজন শিশু খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে ভারী বর্ষণে সৃষ্টি হওয়া ঢলের পানিতে শফিক ভেসে যায়। পরে অন্য শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পের একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।