আমার জেতা ইউরো ২০১৬ বিশ্বকাপের সমান: রোনালদো
ফাইল ছবি
নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে ব্যর্থ হয়েই ক্যারিয়ার শেষ করছেন তিনি। তার পর্তুগাল ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন তাই হয়ে রইল ২০১৬ ইউরোই। রোনালদো জানালেন, সেই ইউরোই তার কাছে বিশ্বকাপের মতো গুরুত্ব বহন করে।
স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে হারার আগেই তিনি জানিয়ে দেন, এটাই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। ম্যাচের পরও এই বিষয়ে নিজের মনের কথা জানান তিনি।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো টানা ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন। ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় এখন তিনিই। তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন রোনালদো। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো মিলে যৌথভাবে আয়োজন করবে সেই বিশ্বকাপ।
স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর রোনালদো বলেন, ‘আমি কখনো আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিই না। এখন এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে আমি খেলা চালিয়ে যাব কিনা। আগামীকাল আমি আজকের মতোই পরিষ্কার বিবেক নিয়ে ঘুম থেকে উঠব।’
এরপরই তিনি জানান ২০১৬ ইউরোর বিষয়ে তার অভিমত। তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় দলে ২৩ বছর খেলেছি এবং তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিশ্চিয়ানোর আগে পর্তুগাল কিছুই জেতেনি। ইউরোই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে ২০১৬ সালের সেই জয়ের গুরুত্ব বিশ্বকাপের সমান, সত্যি বলছি।’
ম্যাচের আগে অবশ্য নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও নিশ্চিত শোনা যায় রোনালদোকে। তিনি বলেছিলেন, ‘এটাই হবে আমার শেষ বিশ্বকাপ, তবে আশা করি আগামীকালের ম্যাচটা আমার শেষ ম্যাচ হবে না।’
এই বিশ্বকাপে মোট তিনটি গোল করেছেন রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুটি গোল করেন তিনি। এরপর নকআউট পর্বে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে করেন নিজের প্রথম নকআউট গোল। অবসর নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট কথা বলেননি রোনালদো। শুধু বলেছেন, তিনি আর কোনো বিশ্বকাপে খেলবেন না।
রোনালদো আরও বলেন, ‘একদিন সেই দিনটা আসবে, তবে সত্যি বলতে ক্রিশ্চিয়ানো পরিষ্কার বিবেক নিয়ে বিদায় নেবে। শতভাগ নয়, হাজার ভাগ পরিষ্কার বিবেক নিয়ে। কারণ আমি ফুটবলে সব উজাড় করে দিয়েছি। আমার এসবের দরকার নেই, আমার ভালো জীবন আছে। এটা শুধু ভালোবাসার ব্যাপার। আমি ফুটবল খেলি কারণ আমি এটা ভালোবাসি... প্রতিটা দিন উপভোগ করতে হয়। আর আমি এখন পর্যন্ত তিনটা গোল করেছি। খারাপ করিনি, তাই না?’