বেলজিয়ামকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেবে যুক্তরাষ্ট্র?
ফাইল ছবি
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহানাটকের মঞ্চ পুরোপুরি প্রস্তুত। আজ বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। আটলান্টার গর্জনে ভরা স্টেডিয়ামে জয়ের নেশায় উন্মুখ হয়ে আছে পুরো মার্কিন জাতি।
মার্কিন কোচ তাদের আস্থার জায়গাটা অটুট রেখেছেন। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের জয় পাওয়া সেই অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই বেলজিয়ামের দুর্গে হানা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আক্রমণভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন তিন গোল করা ফলারিন বালোগুন, যার লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা নাটকীয়ভাবে পিছিয়ে যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে স্বাগতিক শিবির। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে রক্ষণভাগ সামলাবেন টিম রিম, আর গোলপোস্টের নিচে ভরসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন ম্যাট ফ্রিস।
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ এবং ওয়েস্টন ম্যাককিনিদের মতো তারকারা প্রস্তুত নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে।
অন্যদিকে, বেলজিয়াম শিবিরও কোনো অংশে কম যাচ্ছে না। সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে তারা। বেলজিয়ামের মিডফিল্ডার ইউরি টিলেমানসের নেতৃত্বে তাদের ৪-৩-৩ ফরমেশনের দলটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। তবে বড় চমক লুকিয়ে আছে তাদের রিজার্ভ বেঞ্চে। দলটির বড় তারকা রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনা এবং জেরেমি ডোকু—যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া তো থাকছেনই পাহাড়ের মতো অটল হয়ে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে ২০১৪ সালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দেশ। সেবার অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে বেলজিয়াম জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে, যেখানে আজকের বেলজিয়াম একাদশের লুকাকু, ডি ব্রুইনা এবং কোর্তোয়া প্রত্যেকেই ছিলেন প্রধান কুশীলব।
এক যুগ আগের সেই হারের ক্ষত এখনো তাজা মার্কিনিদের হৃদয়ে। এবার ঘরের মাঠে কি সেই বদলা নিতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র, নাকি বেলজিয়ামের অভিজ্ঞতার কাছে আবারও হার মানবে স্বপ্নের পথচলা?