দেশীয় মাছ রক্ষায় ৬৬৯ অভয়াশ্রম: সংসদে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

দেশীয় মাছ রক্ষায় ৬৬৯ অভয়াশ্রম: সংসদে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

ফাইল ছবি

দেশীয় মাছের প্রজাতির বিলুপ্তি রোধ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার সংরক্ষণ, গবেষণা, অভয়াশ্রম স্থাপন ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুনরুদ্ধারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সরকার অভয়াশ্রম স্থাপন, উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত, প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, দেশীয় মাছের প্রজাতির ওপর বিদ্যমান বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী জানান, দেশের নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মোট ৬৬৯টি মাছের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এসব অভয়াশ্রমের আওতায় রয়েছে ১ হাজার ১৯৫ দশমিক ৯১ হেক্টর এলাকা, যা স্থানীয় উপকারভোগী দল পরিচালনা করছে।

তিনি আরও জানান, মূল্যবান জলজ সম্পদ রক্ষায় চট্টগ্রামের নাজিরহাট সেতু থেকে হালদা-কর্ণফুলী মোহনা এবং কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত হালদা নদীর ৪০ কিলোমিটার এলাকাকে মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি মৌলভীবাজার জেলার তিনটি উপজেলায় ১০টি স্থায়ী মাছের অভয়াশ্রম সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

আমিন উর রশিদ বলেন, সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে সরকার ‘অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে।

তিনি বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে বিল নার্সারি স্থাপন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব ও উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মোট ৯৪৭টি বিল নার্সারি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দেশীয় মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্পও বাস্তবায়ন করেছে সরকার।

তিনি বলেন, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সাতটি হাওর জেলায় ৩০ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ রাখা হয়।

মন্ত্রী জানান, মৎস্য সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে কারেন্ট জালের মতো ধ্বংসাত্মক অবৈধ জালের ব্যবহার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশীয় মাছের বিলুপ্তি রোধে গবেষণার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি পাবদা, গুলশা, শিং, মাগুর, ভেদা, বাটা, সরপুঁটি, ভাঙ্গনা, কালিবাউশ, মহাশোল, আইড়, চিতল, ফলি, কুচিয়া, টেংরা, খলিশাসহ ৪১টি দেশীয় মাছের প্রজনন ও চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

মন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে দেশীয় মাছের প্রজাতির সংখ্যা ২৬১টি।