কুড়িগ্রামে আবারও বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নতুন করে বন্যার আশঙ্কা

কুড়িগ্রামে আবারও বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নতুন করে বন্যার আশঙ্কা

ফাইল ছবি

টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের ছোট-বড় সব নদ-নদীর পানি আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার বিকেলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি ১৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নদীর পানি বৃদ্ধিতে তিস্তাসহ জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে দুই দফা বন্যায় জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে পানি বাড়তে থাকায় উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, সাম্প্রতিক বন্যায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা, পাট, পটল, ঝিঙা, ঢেঁড়স, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে।

এর অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের বড় ধরনের লোকসান হয়েছে।

এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে নদীর পানি ওঠানামার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের হরিরাম ও বুড়িরবাজার এলাকা, উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়ন, ব্রহ্মপুত্র নদের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের জলাঙ্গরকুটি এবং সদর উপজেলার চর যাত্রাপুর এলাকায় নদীভাঙনে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে নদ-নদীর পানি বাড়লেও আপাতত বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।

তবে পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের কারণে জেলার ৪২টি পয়েন্টে নদীভাঙন চলছে। যেসব এলাকায় সম্ভব হচ্ছে, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা হচ্ছে।