ইসরায়েলি হামলায় গাজায় বিশ্বকাপ প্রদর্শনীর আয়োজকসহ নিহত ৪

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় বিশ্বকাপ প্রদর্শনীর আয়োজকসহ নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের বড় একটি ম্যাচ ঘিরে গাজার মানুষের মুখে যখন একটু হাসি ফেরার আশা দেখা দিয়েছিল, ঠিক তখনই সেই আনন্দকে ছাপিয়ে আসে যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা। খেলা শুরুর কয়েক মুহূর্ত আগে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারান এক ত্রাণকর্মী, যিনি গাজাজুড়ে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখার আয়োজন করেছিলেন। একই হামলায় দুই শিশুসহ আরও তিনজন নিহত হন।

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়। এতে নিহত হন গাজায় মিসরীয় ত্রাণ কমিটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি, ১০ বছর বয়সী হামজা আল-দেরি, তার ৮ বছরের ভাই ফারি আল-দেরি এবং ৩৩ বছর বয়সী গাড়িচালক আহমেদ দাঘমুশ।

শিফা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবু সেলমিয়া জানান, নিহত চারজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়। তার দাবি, আহমেদ দাঘমুশ একজন ট্যাক্সিচালক ছিলেন এবং কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য জানা যায়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি হামলার লক্ষ্য ছিলেন না। তাদের দাবি, হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে ওই ব্যক্তি দাঘমুশ ছিলেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

জানা গেছে, হামলার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে একই সড়কে আরেকটি হামলা হয়েছিল। তবে সেই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, সেটি গাজায় মিসর সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। সংস্থাটি খাদ্য, আশ্রয় ও অন্যান্য মানবিক সহায়তার পাশাপাশি চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে গাজার বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করেছিল, যাতে যুদ্ধের মধ্যে থাকা মানুষ কিছু সময়ের জন্য হলেও স্বস্তি পেতে পারেন।

মিসর দীর্ঘদিন ধরেই গাজার মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে দেশটি ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী।

এদিকে বিশ্বকাপে মিসর দলের কোচ হোসাম হাসান বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর তিনি সেই জয় মিসর ও ফিলিস্তিনের মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন এবং মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করেন।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্বের ক্রীড়াবিদ ও গণমাধ্যম একসঙ্গে ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার অধিকার নিয়ে কথা বলুক।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তাদের হামলার লক্ষ্য থাকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এড়ানোর চেষ্টা করা হয়। তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শত শত শিশু রয়েছে। একই সময়ে পাঁচজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজারের বেশি। নিহতদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়।