জুলাইয়ের চেতনা সমুন্নত রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে - এবি পার্টি
প্রতীকী ছবি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে অতিদ্রুত বিচার নিশ্চিত, সংস্কার বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদ ও গণভোট কার্যকরের দাবি তোলেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা এমপি রোকেয়া বেগম বলেছেন, দুই বছরেও বিচার না পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি দ্রুত বিচার এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন দাবি করেন।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে কেন টালবাহানা করা হচ্ছে? জুলাই শহীদদের নিয়ে কেন অবমাননা করা হচ্ছে? আমার দেশটাকে ভালোবাসেন, জুলাইকে ভালোবাসেন, ফ্যাসিস্টের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করেন।’
জুলাই শহীদ আরাফাতের বড় ভাই হাসান আলী বলেছেন, শহীদের আত্মত্যাগের বাস্তব প্রতিফলন এখনো দৃশ্যমান নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি রয়েছে, ফাঁসির পরিবর্তে কম সাজা দেওয়া হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসায় বৈষম্য দেখা গেছে।
তিনি বলেছেন, ‘আহতরা যেন জীবিত অবস্থায় বিচার দেখে যেতে পারেন—এটাই তাদের প্রধান প্রত্যাশা। বিচার না হলে নতুন করে গণ-অভ্যুত্থানের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারবেন না এবং তাকে বিশ্বের কোনো দেশই গ্রহণ করতে আগ্রহী নয়।
তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও সক্রিয় থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়; দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা অল্প সময়ে পরিবর্তন করা যায় না, তবে ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন আসাদুজ্জামান রিপন।
তিনি বলেছেন, কিছু বক্তব্য শত্রুপক্ষকে খুশি করতে পারে, যা আত্মঘাতী হতে পারে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সবাইকে এক হতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, জুলাই ন্যায় প্রতিষ্ঠা, সুশাসন, ঐক্যবদ্ধ ও সার্বভৌম বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জুলাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেয় এবং তরুণদের শক্তিকে সামনে নিয়ে আসে। সংস্কারের অঙ্গীকার হিসেবে জুলাই সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর করা হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ভোটাধিকারের প্রশ্নে জনগণের মতামত দ্রুত গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ এবং অপরাধীদের পাশাপাশি সহযোগীদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, যারা ক্ষমতায় আছে তারা বলছে, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে, আর এক পক্ষ বলছে জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তা পরিষ্কার করে বুঝতে পারছে না আসলে কী হচ্ছে। জুলাই সনদ আসলে কবে বাস্তবায়ন হবে। মানুষের জন্য দরকার এরকম একটা সংস্কারও এখন পর্যন্ত সরকার বাস্তবায়ন করেনি। যেই অধ্যাদেশগুলো পাস হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোও করা হয়নি।
অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেছেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণরা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, ভয়মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করেছিলেন। তিনি বলেছেন, গণভোটের প্রসঙ্গে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বাতিল হওয়া আইন দ্রুত পুনর্বহাল করা উচিত। পাশাপাশি জুলাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জুলাই শুধু সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন নয়, বরং একটি দমনমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন ছিল। তিনি বলেছেন, জনগণের রায় আগেই প্রতিফলিত হয়েছে এবং তা সরকারকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।
ডেইলি ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা দেশে-বিদেশে যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ জন্য শক্তিশালী নতুন সংস্থা গঠনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেছেন, কেউ যাতে বিচারের বাইরে থাকতে না পারে বা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করে রাজনীতিতে ফিরে আসতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো যখন জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে যাচ্ছে, তখন তরুণরাই তা ধারণ করছে। ভবিষ্যতে যেন কেউ আন্দোলনকে অপব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, নানা শক্তি জুলাইকে অপমান ও অপদস্থ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা সবসময় জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে যাব এবং এই দেশের মাটিতে থেকেই লড়াই চালাব।