জাতীয় গবেষণা রিপোজিটরি গড়ার উদ্যোগ ইউজিসির

জাতীয় গবেষণা রিপোজিটরি গড়ার উদ্যোগ ইউজিসির

ছবি: সংগৃহীত

দেশে গবেষণার তথ্য ও ফলাফল সংরক্ষণ, সমন্বয় এবং কার্যকর ব্যবহারের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় গবেষণা রিপোজিটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধি, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং একটি সমন্বিত গবেষণা পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইউজিসি অডিটোরিয়ামে ‘ইউজিসি পিএইচডি স্কলারশিপ ২০২৫-২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত গবেষকদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

ইউজিসির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গবেষণার জন্য অর্থায়নের সংকট থাকবে না। তবে গবেষণায় বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে গবেষণা হয় না— এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বিশ্বের যেসব দেশ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে এগিয়ে রয়েছে, তাদের অগ্রগতির পেছনে গবেষণার বড় ভূমিকা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং গবেষণার ফলাফল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আধুনিক জাতীয় গবেষণা রিপোজিটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গবেষণায় অর্থায়ন প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, গত এক বছরে ইউজিসির মাধ্যমে রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট থেকে গবেষণা কার্যক্রমে প্রায় ৮৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারের গবেষণাবান্ধব নীতির ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে এ খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে।

ড. মামুন আহমেদ বলেন, গবেষণা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ নির্ধারিত খাতেই ব্যয় করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা যাবে না। শিক্ষার্থী, তরুণ শিক্ষক এবং অভিজ্ঞ গবেষকদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট গবেষণা কার্যক্রমেই ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং জাতীয় সমস্যাকে সামনে রেখে গবেষণা পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গবেষণার মাধ্যমে এমন বাস্তবভিত্তিক সমাধান বের করতে হবে, যা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং নীতি নির্ধারণে কার্যকর অবদান রাখতে পারে।

পিএইচডি স্কলারশিপপ্রাপ্ত গবেষকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসূচি। নির্বাচিত গবেষকদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে উৎকর্ষ অর্জনের পাশাপাশি দেশের গবেষণা সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে নির্বাচিত গবেষক এবং তাদের তত্ত্বাবধায়করা অংশ নেন।

রিসার্চ গ্র্যান্টস অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ড বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহীন সিরাজ।

ইউজিসি সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পিএইচডি স্কলারশিপ কর্মসূচির জন্য প্রকাশিত উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১৪৭টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৬৫ জন গবেষককে স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত করা হয়।