পানির নিচে কুতুবদিয়া, লাখো মানুষের দুর্ভোগ

পানির নিচে কুতুবদিয়া, লাখো মানুষের দুর্ভোগ

সংগৃহীত ছবি

 

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণে একের পর এক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট ও কালভার্টে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কিছু অসাধু চক্র মাছ শিকার করায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে দ্বীপের লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের পূর্ব তাবালেরচর, আনিছর ডেইল, জেলেপাড়া, বড়ঘোপ ইউনিয়নের বদাইয়ারপাড়া, মনোহরখালী, মিয়ারঘোনা, আজম কলোনি, কালাইয়াপাড়া, দক্ষিণ অমজাখালী, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মলমচর, কিল্লারপাড়া, নজর আলী মাতবরপাড়া, লেমশীখালী ইউনিয়নের মতির বাপেরপাড়া, চিন্নি খাইয়েপাড়া, শাহজীরপাড়া, গাইনে কাটা, নয়াঘোনা, ধুপিপাড়া, দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের কিল্লারপাড়া ও বাতিঘর, উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন সিকদারপাড়া, চাটিপাড়া, জইজ্যারপাড়া, ছাদেরঘোনা, জুম্মাপাড়া, বাকখালীসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনিতে, যেখানে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

বড়ঘোপ ইউনিয়নের বাসিন্দা রেজাউল হাসান, ফরিদ আহমেদ ও শফিকসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, টানা বৃষ্টির পরও দীর্ঘ সময় ধরে পানি না নামায় স্লুইসগেট ও কালভার্টের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মাছ ধরার জন্য পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

কৃষক হারুন বলেন, টানা বৃষ্টির প্রথম রাতেই তার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। পানির তোড়ে ঘরের আসবাবপত্র ভেসে যায়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বর্তমানে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তার মাছের ঘেরও ভেসে গেছে, যা ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলোতে যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করছে। এছাড়া পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।