নিয়মিত সকালে ওটস খাওয়া কি স্বাস্থ্য উপকারিতা

নিয়মিত সকালে ওটস খাওয়া কি স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছবিঃ সংগৃহীত।

ব্যস্ত জীবনে এমন সকালের নাস্তা অনেকেই খোঁজেন, যা স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর এবং ঝটপট খাওয়া যায়।কেউ পাউরুটি খান, কেউ পরোটা, আবার কেউ কর্নফ্লেক্স। তবে গত কয়েক বছরে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ওভারনাইট ওটস। আগের রাতে দুধ বা দইয়ে ওটস ভিজিয়ে রেখে সকালে তার সঙ্গে ফল, বাদাম কিংবা বিভিন্ন বীজ মিশিয়ে খেয়ে থাকেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতিদিন ওভারনাইট ওটস খাওয়া কি সত্যিই শরীরের জন্য ভালো? এক মাস নিয়মিত খেলে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে? গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক উপায়ে তৈরি করলে ওভারনাইট ওটস একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর নাস্তা হতে পারে।

হজমের উন্নতি হতে পারে

ওটসে প্রচুর দ্রবণীয় ফাইবার, বিশেষ করে বিটা-গ্লুকান রয়েছে । এই ফাইবার অন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং মলত্যাগ সহজ করে। তাই নিয়মিত ওভারনাইট ওটস খেলে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য কমতে পারে এবং হজমও ভালো হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওটস অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে কাজ করে। ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং সামগ্রিক হজম প্রক্রিয়াও উন্নত হয়।

দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে

সকালের নাস্তার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অনেকের আবার ক্ষুধা লাগে। কিন্তু ওটস ধীরে ধীরে হজম হয় বলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অকারণে বারবার কিছু খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা অতিরিক্ত স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস কমাতে চান, তাদের জন্য এটি কার্যকর একটি বিকল্প হতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওটস সরাসরি ওজন কমিয়ে দেয় না। তবে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। বিটা-গ্লুকান ফাইবার দীর্ঘ সময় তৃপ্তি ধরে রাখে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি বিপাকক্রিয়াকেও (মেটাবলিজম) স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে ওভারনাইট ওটসে অতিরিক্ত চিনি, চকলেট স্প্রেড, মিষ্টি সিরাপ বা বেশি পরিমাণ শুকনো ফল যোগ করলে ক্যালরি বেড়ে যায়। তখন ওজন কমানোর পরিবর্তে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে

ওটসের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এটি ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায় না। এ কারণে এটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যও উপকারী একটি নাস্তা হতে পারে।

তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, ওভারনাইট ওটসে অতিরিক্ত মধু, চিনি বা মিষ্টি সিরাপ না মেশানোই ভালো। এতে এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অনেকটাই বজায় থাকে।

ভিজিয়ে রাখা ওটস নাকি রান্না করা ওটস

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিজিয়ে রাখা ওটস এবং রান্না করা ওটস-দুটির পুষ্টিগুণ প্রায় একই। তবে রাতে ভিজিয়ে রাখলে ওটস অনেক নরম হয়ে যায়, ফলে অনেকের ক্ষেত্রে এটি সহজে হজম হয়। এছাড়া দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখলে ওটসে থাকা ফাইটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। এতে শরীর কিছু খনিজ উপাদান আরও সহজে শোষণ করতে পারে।

ওভারনাইট ওটস বানানোর নিয়ম

পুষ্টিবিদরা রোলড ওটস ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। এতে দুধ বা চিনি ছাড়া টক দই মিশিয়ে রাখা যেতে পারে। সকালে এর সঙ্গে তাজা ফল, যেমন কলা, আপেল, বেরি বা আম যোগ করতে পারেন। পাশাপাশি কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড বা কুমড়ার বীজ মেশালে পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যায়। সামান্য দারুচিনি গুঁড়া স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য উপকারিতাও যোগ করে। তবে চকলেট স্প্রেড, ফ্লেভারড সিরাপ, মিষ্টি দই বা অতিরিক্ত শুকনো ফল যত কম ব্যবহার করবেন, ততই ভালো।

ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস প্রয়োজন 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওভারনাইট ওটস যতই স্বাস্থ্যকর হোক না কেন, প্রতিদিন শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর করলে শরীরের সব ধরনের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় না। তাই খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাছ বা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও রাখতে হবে।

সঠিক উপায়ে তৈরি ও পরিমিত পরিমাণে খেলে ওভারনাইট ওটস হতে পারে একটি স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা। তবে সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা।