বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ‘২০ জুতার বাড়ি’ দিয়ে সালিশ
প্রতিকি ছবি
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে (১৮) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রাম্য সালিশে মাত্র ‘২০ জুতার বাড়ি’ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা করেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গত সোমবার বাড়িতে একা ছিলেন ওই বাকপ্রতিবন্ধী তরুণী।
এ সময় প্রতিবেশী মৃত তায়জাল খাঁর ছেলে মহব্বত আলী খাঁ (৪৫) ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তরুণীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তকে আটক করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর পুলিশকে না জানিয়ে উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের হাড়িয়াকাহন গ্রামে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। গৌরীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রামানিকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই সালিশে অভিযুক্তকে ২০ জুতার বাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
পরে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) দিয়ে সেই শাস্তি কার্যকর করা হয় এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষর নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাবি মরিয়ম খাতুন অভিযোগ করেন, সালিশে তাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। একতরফাভাবে অভিযুক্তকে জুতার বাড়ি দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির বাবু মোল্লা বলেন, প্রথমে সাত জুতার বাড়ি ও গলায় কাদা মেখে এলাকায় ঘোরানোর প্রস্তাব ছিল। পরে তিনি ২০ জুতার বাড়ির প্রস্তাব দেন এবং সেটিই কার্যকর করা হয়।
গৌরীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রামানিক সালিশের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্থানীয়রা ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তিনি বাদীপক্ষকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগীর বড় ভাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের পাশাপাশি সালিশের নামে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।