কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, ফের বন্যার পদধ্বনি

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, ফের বন্যার পদধ্বনি

সংগৃহীত ছবি

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামে ফের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদ-নদীর পানি অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোমবার বিকেল থেকে এসব নদ-নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

মঙ্গলবার সকাল ৬টায় স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ১৬ ঘণ্টায় রাজারহাটে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কিন্তু বিকেল ৩টায় ও সন্ধ্যা ৬টায় এ পানি ২৫-২৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার  মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে দ্রুতই এ পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করবে। 
 
এছাড়াও ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব নদ নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, দুধকুমার নদের পানি ৩০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতীয় উজানের পানির ঢলের প্রভাবে তিস্তাসহ সবকটি নদ নদীর পানি দ্রুত বাড়ার কারণে মানুষের মধ্যে আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিস্তাসহ এসব নদনদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ক্রমেই প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই রাজারহাট উপজেলার তিস্তা নদীর ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে।বিশেষ করে চর ও দ্বীপচরের অনেক বাড়িতে পানি উঠে চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। গ্রামীণ কাচা সড়কের কোথাও কোথাও পানি উঠেছে।
এছাড়া দুধকুমার নদের বেশ কয়েকটি এলাকায় নিম্নাঞ্চলে পানি উঠায় ফসলী জমি নতুন করে নিমজ্জিত হওয়ায় কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। পূর্বে দুই দফা এসব নদনদীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দুটি বন্যায় এ পযন্ত ৪৯৯ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়। তবে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে ১৪৯ হেক্টর জমির শাক-সবজি, পটল, মরিচ, ঢেড়শ, আমন বীজতলাসহ নানা ফসল। এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দুশ্চিন্তায় মাথায় হাত পড়েছে। অনেকে নষ্ট হয়ে যাওয়া পচন ধরা এসব ফসলের খেত ভেঙে নতুন করে পাট শাক ও অন্যান্য সবজি আবাদের প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছেন।
 সদর উপজেলার পাচগাছী কদমতলার কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, আমার বোরো ফসলের পর কৃষি আবাদ হচ্ছে আসল।সেগুলো দুইবার বন্যায় আসি খায়া গেল।এখনও জমিতে খেত পচা পড়ি আছে। আবার ধরলার পানি বাড়তাছে। কেমনে বাচমু আমরা কৃষকরা।

এদিকে, আবারও নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আরেক দফা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এসব মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না বলে জানা যায়।
অপরদিকে,জেলার নদনদীর পানি বাড়া ও কমার কারনে তিস্তা, দুধকুমার ও ব্র্হ্মপুত্র নদের অন্তত ৪২টি পয়েন্টে নদী ভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ভেঙে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, স্থাপনাসহ নানা প্রতিষ্ঠান।
 
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। দিনভর পানি বাড়লেও এখন সন্ধ্যার পর স্থিতিশীল থাকে। তবে দুধকুমার, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপাতত এসব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা তেমন নেই বলেও জানান তিনি।