কেউ আমাকে খারাপ প্রস্তাব দেওয়ার সাহস পায়নি: শবনম ফারিয়া
ছবি: সংগৃহীত
ছোট পর্দার আলোচিত অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। মুখে ওপর অপ্রিয় সত্য বলতে জুড়ি মেলা ভার। সম্প্রতি অভিনেত্রীকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজবের কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নিজের ফেসবুক এক দীর্ঘ পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এ অভিনেত্রী।
ফারিয়া তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি মিডিয়াতে টুকটাক কাজ শুরু করি ২০১২ সালে। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি ফটোশুট ও বিজ্ঞাপন করতাম। ২০১৩ সালে আমি প্রথম টেলিফিল্ম করি। তারপর পরিবার থেকে নির্দেশনা আসে, ব্যাচেলরস শেষ না করে আর অভিনয় করা যাবে না।’
কথার সূত্র ধরে তিনি আরও লেখেন, ‘২০১৫ সালে আমার গ্রাজুয়েশন শেষ হয়। তারপর আমি নিয়মিত ২০২০ সাল পর্যন্ত অভিনয় করি। করোনা এবং নভেম্বরে আমার ডিভোর্সের পর আমি অভিনয় থেকে বিরতি নিই। এর মধ্যে পলিসিস্টিক ওভেরিয়ান সিনড্রোমের কারণে আমার ওজন অনেক বেড়ে যায়। সেই ওজন নিয়ে ক্যামেরার সামনে কাজ করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলাম না। প্রথমে কাজ কমিয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করি, তারপর সম্পূর্ণ বিরতি নিয়ে মাস্টার্স শেষ করি। মাস্টার্স শেষ করেই চাকরিতে যোগ দিই।’
ফারিয়া যোগ করেন, ‘আমি অনেক বড় গলায় বলতে পারি, এই দীর্ঘ ১৪ বছরে কেউ কোনো দিন, সরাসরি কিংবা আকারে-ইঙ্গিতে, আমাকে কোনো খারাপ প্রস্তাব দেয়নি কিংবা দেওয়ার সাহস পায়নি। আমি বিশ্বাস করি, আমি কাকে আমার কাছে কতটুকু অ্যাক্সেস দেব, আমার কাছে পৌঁছানোর সে ঠিক ততটুকুই পৌঁছাতে পারবে। আমাকে মিডিয়ার বেশিরভাগ মানুষই স্নেহ করেন। ২০১৯ সালে যখন আমার বিয়ে হয়, সেটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যেন একটা উৎসবের মতো ছিল। সবাই আনন্দের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে, উপভোগ করেছে।’
পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে শবনম ফারিয়া লেখেন, মিডিয়ায় তার একমাত্র বদনাম তিনি রাগী। এর বাইরে তার বিরুদ্ধে আনা যেকোনো গুজবের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা মানুষও আমাকে নিয়ে এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা বলবে না কিংবা বানিয়ে বললেও তার প্রমাণ দিতে পারবে না।’ তিনি দাবি করেন, ‘কাজের বিষয়ে তিনি কখনও কোনো প্রযোজকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন না। বরং পরিচালকেরাই তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিনোদন অঙ্গনে প্রাইভেট পার্টির গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে পরিচালক-প্রযোজকদের পার্টি করার মতো এত সময় বা অর্থ নেই।’
ফারিয়া আরও বলেন, ‘আমার যে ইমেজ, আমাকে এসব বলা মানে নিজের ইজ্জত নিজের হাতে গলা টিপে মেরে ফেলা। আমি শতভাগ সেই কথার স্ক্রিনশট কিংবা কল রেকর্ড প্রকাশ করে দেব। মামলা করব। আর আমার মুখ যে পরিমাণ খারাপ করার ক্যাপাবিলিটি আছে, সেটা বিভিন্ন সময় আমার কমেন্ট রিপ্লাই দেখলেই বোঝার কথা।’
সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘বুঝে-শুনে গুজব ছড়াতে হয়। ডায়নামাইটে হাত দিলে তো হবে না। সবাই জানে, এখানে হাত বাড়ালে ব্লাস্ট হবেই। এসব রিউমার ছড়ানোর জন্য খুব খারাপ মানুষ বেছে নিয়েছেন। মিডিয়ায় কাজ করে এমন একজন মানুষকে খুঁজে বের করে আমার সম্পর্কে জানতে চাইবেন। তারপর বুঝবেন, আমি কী জিনিস।’