আর্জেন্টিনার দুর্বলতা দেখিয়ে দিলো ব্রিটিশ গণমাধ্যম

আর্জেন্টিনার দুর্বলতা দেখিয়ে দিলো ব্রিটিশ গণমাধ্যম

ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল খেলতে নামছে। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্টে খেলতে আসা লিওনেল স্কালোনির দলটিকে বেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইউরোপীয় পরাশক্তি দলটি। শুধু দলই নয়, ইংল্যান্ডের গণমাধ্যমও নেমে পড়েছে আর্জেন্টিনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে। দলটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের ডানপ্রান্তকে একটি দুর্বল দিক হিসেবে চিহ্নিত করছে। সেটা কাজে লাগাতে পুরোপুরি প্রস্তুত থমাস টুখেলের শিষ্যরা।

ব্রিটিশ পত্রিকাটি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা বিভিন্ন বিষয় সামনে এনেছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার ডানপ্রান্তে দুর্বলতা খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা। আর্টিকেলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুইজারল্যান্ডের গতিময় উইঙ্গার ড্যান এনদোয়ে পিচে ৮৬ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে নাচিয়েছেন। তারপর থেকে এই অঞ্চলটি নিয়ে চিন্তিত দলটির কোচিং স্টাফরাও। তাছাড়া তারা আরও বলেছে যে, নাহুয়েল মলিনা ও গনসালো মন্তিয়েল উভয় খেলোয়াড়ই টুর্নামেন্টে এসেছেন চোটজনিত সমস্যা নিয়ে। তারা এখনো দলে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেননি।

প্রতিবেদনের লেখক আরও উল্লেখ করেছেন ‘ফর্মে ফিরতে লড়াই করছেন রদ্রিগো দে পল। তিনি পিচের ওপরের দিকে খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না। আর এই ব্যাপারটি স্কালোনির জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলছে।’ স্বভাবতই বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দিকটি মানে ডানপ্রান্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হতে পারে। ওই প্রান্তে খেলা ইংলিশ ফরোয়ার্ডদের নিয়ে তারা এখনই বেশ রোমাঞ্চ অনুভব করছেন। তারা মন্তব্য করেছেন, ‘অ্যান্থনি গর্ডন ও মার্কাস রাশফোর্ডের তো এখন খুশিতে হাত ঘষার কথা।’

ইংল্যান্ডের এই সংবাদমাধ্যম দুর্বল দিক খুঁজে পেয়েছে বটে। কিন্তু একইসঙ্গে আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফরা এই ডানপ্রান্তের বিষয়টি বেশ নিবিড়ভাবেই পর্যবেক্ষণ করছেন। এই কারণেই নকআউট ম্যাচগুলোতে মলিনার জায়গায় মন্তিয়েলকে বদলি হিসেবে নিয়মিত নামানো হচ্ছে। যাতে তাদের খেলার সময়টা ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কারণ আগে চোট পাওয়ার কারণে এই দুই খেলোয়াড়ের কেউই দীর্ঘদিন ধরে পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারেননি।

এদিকে জাতীয় দলের অনুশীলনের শেষ মুহূর্তে স্কালোনি শুরুর একাদশে একটি পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করছেন। টিওয়াইস্পোর্টস-এর তথ্য অনুযায়ী, সেমিফাইনালে শুরুর একাদশ থেকে জায়গা হারাতে পারেন ফুলব্যাকের সামনে খেলা দে পল। পরিবর্তনটি নিশ্চিতভাবে করা হবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তার জায়গায় জুলিয়ানো সিমিওনে অথবা নিকোলাস গনসালেস আসতে পারেন। যদি গনসালেস আসেন, তবে সাবেক আর্জেন্টিনোস জুনিয়রস তারকা খেলবেন বাম প্রান্তে। যার অর্থ দাঁড়ায় আলেক্সিস মাক অ্যালিস্টার সম্ভবত ডান প্রান্তের মিডফিল্ডে চলে যাবেন।

অন্যদিকে, দ্য গার্ডিয়ান আরেকটি দুর্বলতা তুলে ধরেছে। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডের মান যথেষ্ট ভালো হওয়া সত্ত্বেও এর বর্তমান শারীরিক সীমাবদ্ধতা। তারা উল্লেখ করেছে, ‘আর্জেন্টাইন মিডফিল্ড খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে ও সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর মানে হলো তারা ম্যাচের গতি কমিয়ে দিতে পারে। যেমনটা তারা সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের সময় দীর্ঘক্ষণ করেছিল। আবার দ্রুত পাসিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলতে পারে। তবে তাদের দুর্বলতা হলো তারা অন্য দলগুলোর মতো অতটা বেশি দৌড়ায় না। এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুতগতির ফুটবলারদের তালিকায় আর্জেন্টিনার কোনো মিডফিল্ডার নেই।’