বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্যের লড়াই
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের ফাইনাল সাধারণত দুই দেশের লড়াই। কিন্তু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়া ম্যাচটি যেন আরেকটি প্রতীকী গল্পও বয়ে আনছে একদিকে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্যদিকে তার আদর্শ মেনে বেড়ে ওঠা স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল।
ফুটবল ইতিহাসে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়। একসময় যে মেসিকে দেখে ফুটবল শেখার স্বপ্ন দেখতেন ইয়ামাল, আজ সেই মেসির বিপক্ষেই বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামবেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বহুবার বলেছেন, ছোটবেলা থেকেই মেসি ছিলেন তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। বার্সেলোনার একাডেমি লা মাসিয়ায় বেড়ে ওঠা এই উইঙ্গারের খেলায়ও অনেকেই মেসির প্রভাব খুঁজে পান।
এই গল্পকে আরও বিশেষ করে তুলেছে ২০০৭ সালের একটি ছবি। বার্সেলোনা ও ইউনিসেফের একটি দাতব্য ফটোশুটে কয়েক মাস বয়সী লামিন ইয়ামালকে কোলে নিয়ে গোসল করিয়েছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। বহু বছর পর সেই ছবিটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়। তখন কেউ ভাবেনি, ছবির সেই শিশু একদিন বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াবে।
তবে মাঠে আবেগের কোনো স্থান নেই। ৩৯ বছর বয়সী মেসির সামনে রয়েছে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ এবং নিজের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আরেকটি সোনালি অধ্যায় যোগ করার হাতছানি। অন্যদিকে মাত্র কিশোর বয়সেই ইয়ামাল স্পেনকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে ইতিহাস গড়েছেন। ইউরো ২০২৪ জয়ের পর এবার তার সামনে বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনাও।
দুই ফুটবলারের খেলার ধরনেও মিল রয়েছে। দুজনই ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে কেটে এসে আক্রমণ গড়ে তুলতে ভালোবাসেন, দুজনই ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তবে অভিজ্ঞতা আর যৌবনের এই লড়াইয়ে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্তগুলো।
ফাইনালটি তাই শুধু আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা লড়াই নয়। এটি ফুটবলের দুই প্রজন্মেরও প্রতীকী মুখোমুখি। একদিকে এমন একজন, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবল শাসন করেছেন। অন্যদিকে এমন একজন, যাকে অনেকেই ভবিষ্যতের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে দেখছেন।
রবিবারের ফাইনালে ট্রফি উঠবে একটি দলের হাতেই। কিন্তু ফল যাই হোক, বিশ্ব ফুটবল নিশ্চিতভাবেই দেখবে এক বিরল দৃশ্য যেখানে এক কিংবদন্তির বিপক্ষে দাঁড়াবে তার অনুপ্রেরণায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি। সেই কারণেই এই বিশ্বকাপ ফাইনালকে অনেকেই বলছেন, প্রতীকী অর্থে এক ‘গুরু-শিষ্যের’ লড়াই।