মেসি জাদুতে অবিশ্বাস্য কামব্যাক করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
সংগৃহীত
এক সময় ফাইনালের দরজা যেন খুলেই গিয়েছিল ইংল্যান্ডের জন্য। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও অনেকটাই ছিল থ্রি লায়ন্সদের হাতে। কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউট ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত যে কিছুই নিশ্চিত নয়, সেটাই আবারও প্রমাণ করল আর্জেন্টিনা।
শেষ ১০ মিনিটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে ইংল্যান্ডকে বিদায় জানিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। শিরোপার লড়াইয়ে এবার তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রথমার্ধ ছিল রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের। দুই দলই একে অপরকে জায়গা না দেওয়ার কৌশলে খেলায় আক্রমণের চেয়ে শারীরিক লড়াইই বেশি দেখা যায়। প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো দলই গোলমুখে কার্যকর শট নিতে পারেনি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমার্ধে দুই দলের মিলিয়ে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে একটি শটও না হওয়ার বিরল ঘটনাও ঘটে এই ম্যাচে।
বিরতির পর ম্যাচের চেহারা বদলাতে শুরু করে। ৫৫ মিনিটে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ ফিনিশে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। গোল হজমের পরই আক্রমণের গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা।
প্রথমে হুলিয়ান আলভারেজ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও জর্ডান পিকফোর্ডের দৃঢ়তায় সমতা আসেনি। তবে সময় যত গড়িয়েছে, ততই চাপে পড়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণ। অবশেষে ৮৫ মিনিটে সেই চাপেরই প্রতিফলন। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে জাল খুঁজে নিয়ে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। সেই গোল যেন নতুন প্রাণ ফিরিয়ে দেয় আলবিসেলেস্তেদের।
সমতায় ফিরেই থামেনি আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও আঘাত হানে তারা। প্রথমে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি আক্রমণেই লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান লাউতারো মার্তিনেজ। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইংল্যান্ড শিবির, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা।
শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্কালোনির দল। শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা এখন শিরোপার জন্য লড়বে স্পেনের বিপক্ষে। অন্যদিকে, স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো ইংল্যান্ডের।