চুনারুঘাটে দায়সারাভাবে জুলাই শহীদ দিবস পালন

চুনারুঘাটে দায়সারাভাবে জুলাই শহীদ দিবস পালন

সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দিবসটি যথাযথ গুরুত্ব ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে পালন করা হয়নি।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’-এর তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানে বিএনপির কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়া বলেন, আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থেকে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছি। অথচ জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভা সম্পর্কে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। এতে ছাত্র প্রতিনিধিদের বঞ্চিত করা হয়েছে এবং জুলাইয়ের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আমি মনে করি।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মীর সাহেব আলী বলেন, আলোচনা সভা চলাকালীন সময়ে আমাকে ইউএনও অফিস থেকে মৌখিকভাবে অংশ নেওয়ার জন্য জানানো হয়। এত অল্প সময়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের কাছে গৌরবের বিষয়। এ ধরনের দিবস পালনে আরও সমন্বিত ও পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রত্যাশিত ছিল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা তোফাজ্জল মিয়া বলেন, আমি লোকমুখে অনুষ্ঠানটির কথা শুনেছি। একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস এত সীমিত পরিসরে পালিত হবে, তা কল্পনাও করিনি। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে বলে মনে করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, আমরা মাত্র একদিন আগে সরকারি নির্দেশনা পেয়েছি। উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পৃথকভাবে জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে। বিএনপির পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কেউ উপস্থিত না হলে সেটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এছাড়া একজন আহত জুলাই যোদ্ধা আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। তাই কেউই উপস্থিত ছিলেন না—এমনটি বলা সঠিক হবে না।

তবে অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণ না থাকা এবং আয়োজনের পরিধি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। 

সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালনে আন্দোলনের অংশীজন, ছাত্র প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে দিবসটির উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য আরও যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।