বন্যার পানি কেড়ে নিল তাসলিমার স্বপ্ন

বন্যার পানি কেড়ে নিল তাসলিমার স্বপ্ন

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে গত বছর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিহত হন গৃহবধূ তাসলিমার আক্তারের স্বামী জেলে শাহাব উদ্দিন। 

অতিবৃষ্টি পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে ভেঙে গেছে দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ তাসলিমার আক্তারের (২৪) স্বপ্ন।

বৃহস্পতিবার( ১৬ জুলাই) বিকালে উপজেলার সরল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কাহারঘোনা গনিবলি পাড়া গিয়ে কথা হয়  ভুক্তভোগী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে।  

তিনি জানান, বিগত ৭ বছর আগে স্থানীয় শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের ৬ বছর পর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় তার স্বামী শাহাব উদ্দিন। নিখোঁজের পর আজ পর্যন্ত তার স্বামীর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্বামী নিখোঁজের এক বছর পরে  এবারের বন্যায় ভেঙে গেছে তাসলিমার মাথাগোজার ঠাঁই স্বপ্নের কুঁড়ে ঘরটি। 

বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে খেয়ে না খেয়ে কোনরকমে বেঁচে আছে তাসলিমার স্বপ্ন। তার বড় ছেলের নাম  ইমরুল কায়েস (৫) ছোট্ট ছেলের নাম ইমরুল কায়েম (৩)।

বৃহস্পতিবার বিকালে তাসলিমার বাড়িতে গিয়ে তার সাথে কথা হলে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, গত কয়েকদিনে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সমুদ্রের জোয়ারে একমাত্র বেঁচে থাকার স্বপ্নের কুঁড়েঘরটি বন্যার পানিতে ভেসে নিয়ে যায়। একদিকে নিজ এবং ছেলে মেয়ের খাওয়া দাওয়া নিয়ে চিন্তিত সেখানে বাড়তি চিন্তা হিসেবে যোগ হল একমাত্র থাকার ঘরটি বন্যায় ভেঙে নিয়ে যাওয়ায়। 

দিশেহারা হয়ে তিনি বলেন, বন্যার পর এ পর্যন্ত ত্রাণ হিসেবে তেমন কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাননি। অল্প কিছু চাল, বিস্কুট, মুড়ি পেয়েছেন শুধু। তিনি বর্তমানে সরকারের কাছে দাবি করেন তার ভেঙে যাওয়া বাড়িটি যদি নির্মাণ করে দেওয়া হয়  তাহলে তার জন্য অনেক  উপকার হবে। 

তাসলিমা আক্তারের ননদ আশা আক্তার বলেন, আমার ভাই শাহাব উদ্দিন মারা যাওয়ার পর থেকে  আমার ভাবী দুই সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টের দিন কাটিয়েছিল। এবারের বন্যায় ওর বাড়িটি ভেঙে যাওয়ায় তিনি খুব ভেঙে পড়েছেন।

সরল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোকসানা আক্তার জানান, বিষয়টি খুব মর্মান্তিক। বছরখানেক আগে তাসলিমার স্বামী সমুদ্রের মাছ ধরতে গিয়ে মারা যায়। এবারের বন্যার তার বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। আমি সকালে তার বাড়ি পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ইতোমধ্যে এমপি ও ইউএনওকে জানানো হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন, বিষয়টি আমাকে একজন জনপ্রতিনিধি মোবাইলে জানিয়েছেন। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়।