‘গণঅভ্যুত্থানের সময় নজরুলের কবিতা নতুন করে ফিরে এসেছিল’

‘গণঅভ্যুত্থানের সময় নজরুলের কবিতা নতুন করে ফিরে এসেছিল’

ছবি: ফাইল ফটো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও নজরুলের কবিতা নতুন করে মানুষের কণ্ঠে ফিরে এসেছিল। প্রতিবাদ, সাম্য ও মুক্তির যে চেতনা নজরুল ধারণ করেছিলেন, তা প্রতিটি প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’

বুধবার (২২ জুলাই) চবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনার ও সঙ্গীতানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 

উপাচার্য আরও বলেন, ‘নজরুলকে কোনো একটি পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। কেউ তাকে প্রেমের কবি বলেন, কেউ বিরহের কবি, কেউ রণাঙ্গনের কবি, কেউ সাম্যের কবি, কেউ ধর্মীয় সম্প্রীতির কবি, কেউ বা তারুণ্যের কবি বলেন। আবার তিনি প্রতিবাদের কবি, সমাজসংস্কারের কবি, স্বাধীনতারও কবি। আপনি যেভাবেই চিন্তা করেন না কেনো, নজরুলকে সেভাবেই উপস্থাপন করতে পারবেন।’

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্ব এবং সঙ্গীত বিভাগের সভাপতি মিশকাতুল মমতাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর।

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. আল-আমীন বলেন, ‘জুলাইয়ে আমাদের নতুন করে আরেক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তখন যেই কবির নাম সব জায়গায় উচ্চারিত হয়েছিল, সেটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের। দেশ এবং মানুষের সর্বস্তরে মিশে যাওয়া কবির নাম কাজী নজরুল। যখনই সমাজে অন্যায় নেমে আসে, তখনই তার কবিতাগুলো আমাদের সামনে এসে হাজির হয়ে যায়।’

সেমিনারে ‘দেশপ্রেম, মানবতাবোধ এবং গণজাগরণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন চবির বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন।

প্রবন্ধে ড. নুরুল আমীন বলেন, ‘সৈনিক জীবন শেষে নজরুল যখন কবি পরিচয়ে পরিচিত হয়ে উঠছেন, তখন তার দেশ প্রেমের উত্তুঙ্গ রূপ উদ্ভাসিত হতে লাগল। পরাধীন ভারতের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় নজরুলের সব কবিতা ও গান যেমন গণজাগরণের প্রেরণা জুগিয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের মুক্তি-সংগ্রামে, এমনকি চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানেও গভীর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।’

প্রবন্ধের উপর আলোচনা-সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ ও অধ্যাপক ড. তাসলিমা বেগম এবং চবির নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন।

এরপর দুপুরে সঙ্গীতানুষ্ঠানে একাধিক নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস আরা। এছাড়া চবির নাট্যকলা বিভাগ ও সঙ্গীত বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে ছিল বিশেষ পরিবেশনা।